
আগরতলা, ২০ মার্চ (হি.স.) : ক্রীড়া জগতে সাহসিকতার নজির গড়তে চলেছেন ত্রিপুরার যুবক প্রশান্ত দে। কোনও ধরনের সাপ্লিমেন্টাল অক্সিজেন ছাড়াই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন তিনি। আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে তাঁর এই দুঃসাহসিক অভিযান।
রাজধানী আগরতলার ভাটি অভয়নগরের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত দে ত্রিপুরা স্পোর্টস ক্লাইম্বিং অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য। দীর্ঘদিন ধরেই পর্বতারোহণের সঙ্গে যুক্ত তিনি। প্রায় ১৫ বছর আগে জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখে এনসিসি ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সময়ই তাঁর পর্বতারোহণের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর গত এক দশকে দেশের সাতটি উল্লেখযোগ্য পর্বত শৃঙ্গে আরোহণ করেছেন তিনি।
বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৮,৮৪৮ মিটার। এই শৃঙ্গে আরোহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং। অতীতে বহু পর্বতারোহী প্রতিকূল আবহাওয়া ও অক্সিজেনের অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। সাধারণত ৮,০০০ মিটার উচ্চতার পর ‘ডেথ জোন’-এ অক্সিজেনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা পর্বতারোহীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই কোনও অক্সিজেন সহায়তা ছাড়াই এভারেস্ট জয়ের লক্ষ্যে এগুচ্ছেন প্রশান্ত দে। তিনি জানান, এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করলেও অনুমতি পাননি। তবে এবার নেপাল সরকারের অনুমোদন পাওয়ায় তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী ২৫ মার্চ তিনি নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং অভিযান চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।
প্রশান্ত দে দাবি করেছেন, ১৯৮৪ সালের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে তিনিই প্রথম কোনও সাধারণ নাগরিক হিসেবে অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্ট অভিযানে অংশ নিতে চলেছেন।
এদিন আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরা স্পোর্টস ক্লাইম্বিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিমল সূত্রধর জানান, এই অভিযানের মোট ব্যয় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সংস্থার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই অভিযানের সাফল্যের জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ