(লিড ) নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বলেন্দ্র শাহর, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নজর দক্ষিণ এশিয়ার
কাঠমান্ডু/নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ (হি.স.) : নেপালের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়— রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি সংসদীয় দলের নেতা বলেন্দ্র শাহ শুক্রবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। রাজধানী কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠা
নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বলেন্দ্র শাহর, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নজর দক্ষিণ এশিয়ার


কাঠমান্ডু/নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ (হি.স.) :

নেপালের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়— রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি সংসদীয় দলের নেতা বলেন্দ্র শাহ শুক্রবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। রাজধানী কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউদেল।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৬(১) অনুযায়ী প্রতিনিধি সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতা হিসেবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করা হয়। ২০১৫ সালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর এই ধারার প্রয়োগে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ঘটনা প্রথমবার ঘটল বলেই রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

৩৫ বছর বয়সে দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন বলেন্দ্র শাহ। তাঁর রাজনৈতিক উত্থান সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাঠমান্ডু মহানগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়া—এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। ঝাপা কেন্দ্র থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদে প্রবেশ করেন বলেন্দ্র শাহ। এই ফলাফল নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলির আধিপত্যের মধ্যে নতুন বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে শাহর উত্থান সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে।

শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন তিনি। অর্থ, স্বরাষ্ট্র, বিদেশ, অবকাঠামো, শিক্ষা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরে নতুন মুখদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যেই তাঁর সরকার কাজ করবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা তার মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা এবং বৈদেশিক নীতিতে সুসংহত অবস্থান নেওয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ইতিমধ্যেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় বলেন্দ্র শাহকে আন্তরিক অভিনন্দন। আপনার এই শপথ গ্রহণ নেপালের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি অর্পিত আস্থারই প্রতিফলন। আমাদের দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে ভারত-নেপাল বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে আমি আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালে নতুন নেতৃত্বের আগমন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। চিন, ভারত এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে নেপাল কীভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নেপাল কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পরিবর্তনের প্রত্যাশা এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে নেপালের আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande