পানিহাটিতে জমে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই, রয়েছে অভয়া কান্ডের প্রভাব
কলকাতা, ২৭ মার্চ (হি.স.) – উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটি বিধানসভা ক্ষেত্রটি ২০২৬ সালের নির্বাচনে এবারের রাজ্যের অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে। সাধারণত শান্ত ও কম আলোচিত এই কেন্দ্র এবার রাজনৈতিক, সামাজিক ও আবেগগত কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
পানিহাটিতে জমে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই, রয়েছে অভয়া কান্ডের প্রভাব


কলকাতা, ২৭ মার্চ (হি.স.) – উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটি বিধানসভা ক্ষেত্রটি ২০২৬ সালের নির্বাচনে এবারের রাজ্যের অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে। সাধারণত শান্ত ও কম আলোচিত এই কেন্দ্র এবার রাজনৈতিক, সামাজিক ও আবেগগত কারণে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এর প্রধান কারণ হলো, ভারতীয় জনতা পার্টি এইবার এখানে আরজি কর এর নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ-কে প্রার্থী করেছে। ফলে, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)–র মধ্যে সরাসরি ত্রিমুখী লড়াই তৈরি করেছে।

পানিহাটি কেন্দ্রটি দমদম লোকসভা ক্ষেত্রের অংশ এবং পানিহাটি পৌরসভার ২৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এমনিতে এই আসনটি বামেদের ঘাঁটি, যেখানে সিপিআইএম আটবার জয় লাভ করেছে। তবে ২০১১ সালের পর থেকে এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাধান্য রয়েছে এবং ধারাবাহিক তিনবার জয়ী হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষ - কে টিকিট না দিয়ে তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ-কে ভোট ময়দানে লড়াইয়ে নামিয়েছে। নির্মল ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন, কিন্তু আরজিকর কাণ্ডে তাঁর নাম আসার পর দল তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ-কে টিকিট দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি এই আসনে আরজি কর এর নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ-কে প্রার্থী করেছে। বিজেপি এখানে সেই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোট ঘরে তুলতে চাইছে। এছাড়া, দেবনাথ পরিবার এই বিধানসভা এলাকারই ভোটার, ফলে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আর, সিপিআই(এম) তাদের সক্রিয় তরুণ নেতা কলতান দাশগুপ্ত-কে প্রার্থী করেছে। তিনি আরজিকর আন্দোলনের অন্যতম একজন।

২০২৪ সালে এই এলাকায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৪৯ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন, যা ২০২১ সালের ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৪৮ জন - এর তুলনায় সামান্য বেশি। এর আগে, ২০১৯ সালে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার,০৬৮ জন এবং ২০১৬-এ ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ জন ছিল।

তফসিলি জাতির ভোটার প্রায় ৫.১৯ শতাংশ, মুসলমান ভোটার পাঁচ শতাংশের কম।

গত ২০১১ সালে ভোটদানের হার ছিল ৮১.০৯ শতাংশ, ২০১৬-এ তা কমে যায় - ৭৮.৭৫। এরপর ২০১৯-এ ৭৬.১১ শতাংশ। ২০২১-এ ৭৫.৫৯ এবং ২০২৪-এ তা আরও কমে যায় ও ৭৪.৪১ শতাংশে নামে। এই প্রবণতা নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

তৃণমূল যদিও এখানে ভাল অবস্থায় রয়েছে, তবে বিজেপিও সাম্প্রতিক বছর গুলোতে সিপিআই (এম) ' কে পিছনে ফেলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

বাম-মোর্চাও এই আসনে পুরোপুরি দুর্বল নয়। সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখায়, জোটের ভোট ভাগ বাড়ছে, তৃণমূলের সমর্থন কমছে। ফলে, যদি বিরোধী ভোটের ধ্রুবীকরণ হয়, লড়াই আরও কঠিন হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এবারের পানিহাটি বিধানসভা আসনের লড়াই শুধু রাজনৈতিক শক্তিরই নয়, আবেগ, সামাজিক এবং সাংগঠনিক শক্তিরও পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে তার ঐতিহ্যবাহী আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, সেখানে বিজেপি সহানুভূতি ও আক্রমণাত্মক প্রচারের মাধ্যমে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বামেরা তাদের পুরনো ভোট ফেরার আশা করছে। ফলস্বরূপ, ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য এই আসনটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande