(রাউন্ড আপ ) কেরলমে পরিবর্তনের হাওয়া, দাবি মোদীর; ইউডিএফ–এলডিএফ জোটকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর
পালাক্কাড়, ২৯ মার্চ (হি.স.): কেরলমে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে—এই দাবি তুলে বিজেপি ও এনডিএ-র পক্ষে জোরাল বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার পালাক্কাড়ের জনসভা থেকে তিনি বলেন, আমি কেরলমে এক নতুন ও স্বতন্ত্র শক্তি অনুভব করছি। এই রাজ্য পরিবর্
কেরলে পরিবর্তনের হাওয়ার দাবি মোদীর, ইউডিএফ–এলডিএফকে তীব্র আক্রমণ


পালাক্কাড়, ২৯ মার্চ (হি.স.): কেরলমে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে—এই দাবি তুলে বিজেপি ও এনডিএ-র পক্ষে জোরাল বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার পালাক্কাড়ের জনসভা থেকে তিনি বলেন, আমি কেরলমে এক নতুন ও স্বতন্ত্র শক্তি অনুভব করছি। এই রাজ্য পরিবর্তনের এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। এনডিএ-র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং জনগণের মধ্যে বিজেপির প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, এখানে পালাক্কাড়ে আপনাদের এই বিপুল উৎসাহ ও বলিষ্ঠ উপস্থিতি প্রমাণ করে যে কেরলের মনোভাব একটি আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন, কেরলম বিজেপি এবং এনডিএ উভয়ের উপরেই আস্থা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেরলম পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। এনডিএ-র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, বিজেপির প্রতি জনগণের ক্রমবর্ধমান আস্থা, এখন আপনাদের উৎসাহ ও সমর্থন, এত বিপুল সংখ্যায় আপনাদের উপস্থিতি—এই সবই দেখাচ্ছে যে কেরলমের আবহ একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এখন এখানকার যুবকদের বিজেপি এবং এনডিএ-র ওপর আস্থা আছে। কেরলমের নারীদের বিজেপি এবং এনডিএ-র প্রতি অনুরাগ আছে। এখন কেরলমের কৃষকদের বিজেপি এবং এনডিএ-র প্রতি ভালোবাসা আছে।

এনডিএ-র সরকার গঠনের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় তাঁর কথায়। মোদী বলেন, টিম বিজেপি এবং টিম এনডিএ এখানে সরকার গঠনের জন্য কাজ করছে। কেরলমের জনগণের আশীর্বাদে, আপনাদের আশীর্বাদে, আমরা এখানে সরকার গঠন করব এবং কেরলমের সেবায় আমরা কোনও খামতি রাখব না। এনডিএ-র লক্ষ্য হলো কেরলমের জনগণের স্বপ্ন পূরণ করা।

নারী উন্নয়ন নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বিজেপি সর্বদা নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন পদ্ধতির প্রচার করে এসেছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা বা আবাসন—যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, আজ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলিতে নারীরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পান। বিধানসভা ও সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা নারী শক্তি বন্ধন আইনও পাশ করেছি।

এদিকে, জনসভা থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ এবং বাম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ—উভয় জোটকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইউডিএফ ও এলডিএফ উভয়ই বিজেপিকে নিশানা করছে, কারণ তাঁরা আশঙ্কা করছে, বিজেপি তাদের অতীতের অপকর্ম ফাঁস করে দেবে। তিনি আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে এলডিএফ এবং ইউডিএফ বড় বড় কেলেঙ্কারিতে জড়িত থেকেও একে অপরের বিরুদ্ধে কখনও সত্যিকারের কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, বরং কেবল ফাঁকা বিবৃতি দিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এলডিএফ ও ইউডিএফের করা সমস্ত কেলেঙ্কারির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই সম্ভাবনাটিই উভয় দলের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে।

রাজনৈতিক সমীকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় পর্দার আড়ালে সবসময় প্রশ্ন ওঠে যে কোন দল কার 'বি টিম'। আমি আপনাদের কাছে আসল সত্যটা তুলে ধরছি। সারাদেশে কংগ্রেস এবং কমিউনিস্টরা প্রায়ই হাত মেলায়। তারা ইন্ডি জোটে একসঙ্গে আছে। তারা এর আগে দিল্লিতে একসঙ্গে সরকারও গঠন করেছে। এমনকি তামিলনাড়ুতেও উভয় দল জোটে রয়েছে। তবে কেরলমে কংগ্রেস এবং বামেরা একে অপরের প্রতিপক্ষ হওয়ার ভান করে। তাই আপনাদের উভয় দল সম্পর্কেই সতর্ক ও সচেতন থাকা উচিত।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ টেনে বামেদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস ও বামেদের অতীত কর্মকাণ্ড দেখলেই বোঝা যায়, তারা যেখানেই ক্ষমতায় আসে, সবকিছুরই অবনতি ঘটে। পশ্চিমবঙ্গে বামেরা কী করেছে তা গোটা দেশ জানে, এবং ভারতজুড়ে কংগ্রেস শাসনের প্রভাবও সকলে প্রত্যক্ষ করেছে।

কেরলের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোদী। তিনি বলেন, কেরলমও এই একই অপশাসনের চক্রে ভুগেছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রদানে বিলম্বের খবর সামনে এসেছে এবং পেনশন বিতরণেও নানা সমস্যার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।

কেরলের মাটিতে দাঁড়িয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করতে চাইছে বিজেপি। তাঁর বক্তব্যে যেমন পরিবর্তনের বার্তা, তেমনই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণের সুর—দুই-ই উঠে এল স্পষ্টভাবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande