
আগরতলা, ২৯ মার্চ (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় বটতলা এলাকায় গভীর রাতে এনজিও-র নাম ব্যবহার করে কিছু যুবকের ‘অভিযান’ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেও ওই যুবকদের 'দাদাগিরি'র অভিযোগ উঠেছে, যা ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে নিজেদের “ইউথ ব্রিগেড” নামে একটি এনজিও-র সদস্য পরিচয় দিয়ে একদল যুবক বটতলা এলাকায় দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি করে। তবে এই অভিযানের বিষয়ে আগাম প্রশাসন বা পুলিশের কাছে কোনও ধরনের অনুমতি বা তথ্য দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ।
অভিযান চালানোর সময় ওই যুবকরা বটতলা এলাকা থেকে দু'জন মহিলা ও একজন পুরুষকে আটক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকদের পরিচয় ও তাঁদের অভিযানের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে, যুবকদের একাংশ পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, তাঁরা পুলিশের সঙ্গে অসহযোগিতা করে এবং রীতিমত 'দাদাগিরি' প্রদর্শন করে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চাপের মুখে পুলিশকেও সেখান থেকে সরে যেতে হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পুরো ঘটনাটি কিছু স্থানীয় বাসিন্দার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট এনজিও-র পক্ষ থেকে এক যুবক দাবি করেন, তাঁরা এর আগেও শুক্রবার মহারাজগঞ্জ বাজার এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালিয়েছেন। পাশাপাশি দেহ ব্যবসা রোধে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেহ ব্যবসার মত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করতে হলে আইন মেনে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোনও এনজিও বা বেসরকারি সংগঠন এভাবে নিজ উদ্যোগে রাতের আঁধারে অভিযান চালালে তা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের অভিযানের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার আগে থেকে পুলিশ বা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া না হলেও, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ