
দুর্গাপুর, ৩০ মার্চ (হি.স.): ভোটার তালিকায় নাম না ওঠাকে কেন্দ্র করে মানসিক অবসাদে ভুগেছিল বলে অভিযোগ। সোমবার পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা ব্লকের আকোন্দরা গ্রামে এক দিনমজুরের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও।
সোমবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম ক্ষ্যাপা হাজরা (৩৫)। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। পরিবার সূত্রে দাবি, সম্প্রতি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে এলাকার একাধিক বাসিন্দার নাম বাদ পড়েছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অনেকের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও ক্ষ্যাপা হাজরার নাম আর ওঠেনি।
পরিবারের অভিযোগ, ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম না থাকলেও পরে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ রাখা হয়েছিল। শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার পরেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম না ওঠায় তিনি চরম আতঙ্কে ভুগছিলেন। নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।
বিগত শনিবার দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর গ্রামের মাঠের পাশ থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি বিষাক্ত কিছু খেয়েছিলেন। দু’দিন চিকিৎসার পর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের স্ত্রী বৃন্দা হাজরার অভিযোগ, “ভোটার তালিকায় নাম না ওঠার পর থেকেই ও ভীষণ ভয়ে ছিল। ঠিকমতো খেত না, কারও সঙ্গে কথা বলত না। শেষ পর্যন্ত এই পথ বেছে নিল। আমরা এখন দিশেহারা।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেন, “অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও মানুষকে মানসিকভাবে চাপে ফেলা হচ্ছে, যার ফলেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।”
অন্যদিকে বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “অন্যান্য রাজ্যেও এই প্রক্রিয়া হয়েছে, কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি। তৃণমূলই মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তবে আমরা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছি—ভয়ের কিছু নেই, যোগ্যদের নাম তালিকায় উঠবেই।” ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা