
কলকাতা, ৩১ মার্চ (হি.স.): রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘ফর্ম-৬’ জমা দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে মুখ খুলল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। মঙ্গলবার এক বিবৃতির মাধ্যমে পরিস্থিতি স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, সরকারি দফতরের যেকোনো ব্যক্তি একাধিক নথি বা আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন এবং এর ওপর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে বিপুল সংখ্যায় ফর্ম-৬ জমা পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং একে কোনোভাবেই বেআইনি বলে গণ্য করা যায় না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাই এই নিয়ে অযথা বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের মঙ্গলবারের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে যে, সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী এখন বছরজুড়ে যেকোনো সময় ফর্ম-৬ জমা দেওয়া সম্ভব। আগে এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়াটি একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের ১০ দিন আগে পর্যন্ত যে সমস্ত আবেদন জমা পড়বে এবং নিষ্পত্তি হবে, কেবলমাত্র সেগুলিই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়সীমার পরে জমা পড়া ফর্ম গ্রহণ করা হলেও তা বর্তমান নির্বাচনে কার্যকর হবে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২৭ ও ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।
দফতর আরও স্পষ্ট করেছে যে, সরাসরি ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন বা বিয়োজন করার কোনো ক্ষমতা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের নেই। এই দায়িত্ব জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও) এবং নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ইআরও) মাধ্যমে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়। সম্প্রতি হুগলি ও হাওড়া থেকে কিছু ব্যক্তির আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ফর্ম-৬ নিয়ে যে ‘চক্রান্ত’-এর অভিযোগ উঠেছে, তাও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি আইন মেনেই সম্পন্ন হচ্ছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত