(রাউন্ড আপ) 'আলু নিয়ে রাজনীতি করবেন না, গরিবের পেটে লাথি মারবেন না': পশ্চিম মেদিনীপুর ও বিষ্ণুপুর থেকে বিজেপিকে কড়া তোপ মমতার
চন্দ্রকোণা/গড়বেতা/বিষ্ণুপুর, ৩১ মার্চ (হি.স.): রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলায় ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা ও গড়বেতা এবং বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের জনসভ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


চন্দ্রকোণা/গড়বেতা/বিষ্ণুপুর, ৩১ মার্চ (হি.স.): রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলায় ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা ও গড়বেতা এবং বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের জনসভা থেকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। ভোটার তালিকায় কারচুপি থেকে শুরু করে আলু চাষিদের সমস্যা—একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলা তার গণতন্ত্রকে লুঠ হতে দেবে না এবং এবারের নির্বাচনেও ‘জোরদার খেলা’ হবে।

মঙ্গলবার চন্দ্রকোণার ক্ষীরপাইয়ের চরকডাঙ্গা ময়দানে আয়োজিত সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলু চাষিদের সমস্যা নিয়ে সরব হন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি আলু নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। চাষিদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আমরা আইসিডিএস -এর জন্য সরাসরি চাষিদের থেকে আলু কিনব। বিজেপি নেতারা যারা ব্যবসা করছেন করুন, কিন্তু গরিবদের পেটে লাথি মারবেন না।” তিনি আরও জানান যে, অন্যান্য ফসলের মতো আলুর জন্যও বিমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে রাজ্য সরকার কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেবে। আলুর উপযুক্ত দাম ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে তিনি সাধারণ মানুষকে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিনের প্রতিটি সভা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকায় কারচুপির বিষয়ে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এ রাজ্যের প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে উত্তর প্রদেশ, বিহার, রাজস্থান ও হরিয়ানা থেকে নাম এনে বাংলার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাকে ট্রেনে করে লোক নিয়ে এসে ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা চলছে। কালকেও নির্বাচন কমিশনে এমন ৩০ হাজার ভুয়া নাম জমা দেওয়া হয়েছে যারা বাংলার কেউ নয়।” এই ষড়যন্ত্র রুখতে তিনি দলের সর্বস্তরের কর্মী ও পদাধিকারীদের বুথ স্তরে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, ইতিমত্যেই প্রায় ৬০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই বিপুল সংখ্যক নাম এখনও তোলা হলো না? এই বিষয়ে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তিন পাতার কড়া চিঠি লিখেছেন এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী উত্তরা সিংয়ের সমর্থনে আয়োজিত সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির সাফল্য তুলে ধরেন। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, “এই প্রকল্পে জাতি-ধর্ম-বর্ণের কোনও স্থান নেই। হিন্দু-মুসলিম-শিখ-ইশাই—সকলেই এর সমান অংশীদার।” যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁরাও খুব শীঘ্রই তা পেতে শুরু করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন। এছাড়া আইটিআই কলেজ, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, উন্নত রাস্তা ও সেতুর মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, রাজ্যে বর্তমানে ১০৫টি জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সচল রয়েছে।

বিষ্ণুপুরের জনসভা থেকে বিজেপিকে ‘বাংলা বিদ্বেষী’ বলে অভিহিত করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের প্রাপ্য জিএসটির টাকা আটকে রেখেছে, তবুও বাংলার কোনও প্রকল্প বন্ধ হয়নি। সরাসরি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “বিপক্ষ যত খুশি রণনীতি তৈরি করুক না কেন, তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। এই নির্বাচনেও খেলা হবে এবং সেই খেলা হবে অত্যন্ত জোরদার।” বিষ্ণুপুরের মন্দির সংরক্ষণ, মিউজিয়াম নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য জেলা গঠনের মতো কাজের উল্লেখ করে তিনি ঐতিহ্যবাহী এই জনপদকে আরও বিশ্বসেরা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হতে পারে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “অহঙ্কার নয়, মানুষের জন্য কাজ করুন। মানুষই সবথেকে বড়।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকার এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান যাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পর আর কোনও ভুয়া নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার এই তিন সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নের কার্ড খেলার পাশাপাশি বিজেপির ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব ও ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচনী লড়াইকে আরও কয়েক ধাপ তপ্ত করে তুললেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande