
বাঁকুড়া, ৬ মার্চ (হি.স.) : বাঁকুড়া জেলার ওন্দা থানার পুনিশোল গ্রামে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, গ্রামের প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোটারের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ ( আন্ডার রিভিউ) স্ট্যাম্প থাকায় তাদের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে জেলায়।
নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুনিশোল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আগে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৮ হাজার ৩১৭। সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৫৩ জনের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ স্ট্যাম্প রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ওই ভোটারদের নাম চূড়ান্তভাবে তালিকায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে বিচার প্রক্রিয়ার উপর।
পুনিশোল গ্রামটি জেলার অন্যতম বৃহৎ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। সংলগ্ন কয়েকটি ছোট গ্রাম নিয়ে গঠিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় শতভাগ সংখ্যালঘু মানুষের বসবাস। গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি-সহ এনুমারেশন ফর্ম জমাও দিয়েছেন। শুনানিতে ডাকা হলে বৈধ কাগজপত্রও দেখিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। তবু চূড়ান্ত তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেক পরিবারের একাধিক সদস্যের ভোটাধিকারও বর্তমানে ঝুলে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে শাসকদলসহ জেলার একাধিক রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও সিপিএমের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বেছে বেছে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, অনেকেই প্রয়োজনীয় বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। সেই কারণেই বিষয়টি বিচার প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারকদের উপর নির্ভর করছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট