(আপডেট) গণপিটুনিতে তরুণ খটিকের হত্যার তীব্র নিন্দা, হিন্দু উৎসবগুলিতে হামলার তালিকা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের
নয়াদিল্লি, ৯ মার্চ (হি.স.): হোলির দিনে দিল্লির উত্তম নগরে রং খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তরুণ খটিক নামে এক যুবকের মৃত্যুতে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। এই ঘটনাকে ''জিহাদি হামলা'' ও ''গণপিটুনি'' আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপ
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল


নয়াদিল্লি, ৯ মার্চ (হি.স.): হোলির দিনে দিল্লির উত্তম নগরে রং খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তরুণ খটিক নামে এক যুবকের মৃত্যুতে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। এই ঘটনাকে 'জিহাদি হামলা' ও 'গণপিটুনি' আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানাল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। সোমবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ডঃ সুরেন্দ্র জৈন এবং জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে সরব হয়েছেন।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তম নগরে সাত বছরের এক শিশু তার কাকার দিকে জলের বেলুন ছুড়লে কয়েক ফোঁটা জল পাশ দিয়ে যাওয়া এক মহিলার গায়ে পড়ে। অভিযোগ, এর জেরেই একদল দুষ্কৃতী তরুণের বাবা-মা ও কাকাকে মারধর শুরু করে। এরপর তরুণকে তলোয়ার, পাথর ও লাঠি দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। ডঃ সুরেন্দ্র জৈনের দাবি, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তিনি মূল অভিযুক্ত মহিলাসহ সমস্ত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে ডঃ জৈন অভিযোগ করেন যে, হিন্দু উৎসব ও মিছিলে পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরেই এই ধরনের ১১টির বেশি আক্রমণ হয়েছে এবং গত ১০ বছরে শুধু হোলির দিনেই ৪২টির বেশি হামলার অভিযোগ জমা পড়েছে। সামগ্রিকভাবে গত এক দশকে বিভিন্ন হিন্দু উৎসবে ২৪০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তিনি আরও বলেন, জিহাদিরা প্রায়ই আইনি জটিলতা এড়াতে নারী ও নাবালকদের সামনে এগিয়ে দেয়, এই কৌশল এবার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তরুণ খটিকের হত্যাকাণ্ডে রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডঃ জৈন। তাঁর মতে, তুচ্ছ বিষয়ে সরব হওয়া নেতারা এই নৃশংস ঘটনায় চুপ থেকে পরোক্ষভাবে এই ধরনের মানসিকতাকেই সমর্থন করছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনও গোষ্ঠী যদি হিন্দুদের উৎসব পালনে বাধা দেয়, তবে তাদেরও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা উচিত।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল জানান, তিনি আজই নিহত তরুণের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিল্লি পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ভিএইচপি-র দাবি, মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। হিন্দু সমাজকে রক্ষা করতে তাঁরা যে কোনও সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande