
মালদা, ১ এপ্রিল (হি.স.): মালদা জেলার চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শুরু হওয়া অন্তর্কলহ এবার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করল। মঙ্গলবার রাতে জেলা কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক আঞ্জরুল হক জনি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। নির্বাচনের মুখে তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তে মালদা জেলা তথা চাঁচল এলাকার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় প্রার্থী নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ এবং জেলা নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি ঈশা খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন আঞ্জরুল হক জনি। তাঁর দাবি, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু জেলা নেতৃত্ব সেই অভিযোগ শোনার বা মেটানোর কোনও সদিচ্ছাই দেখায়নি। উল্টে তাঁকে ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’-এর অভিযোগে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) পাঠানো হয়েছে। নিজের সপক্ষে জনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনও ধরনের বিক্ষোভ প্রদর্শনের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই এবং গত কয়েকদিন ধরে তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হয়েছে। এমনকি জেলা সভাপতি তাঁকে ফোনে হুমকি দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, নেতৃত্ব কর্মীদের আবেগকে মর্যাদা না দিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার প্রতিবাদেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে আঞ্জরুল হক জনির মতো নেতার ইস্তফা কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে জনির অনুগামীরা যদি নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী ময়দানে নামেন, তবে চাঁচল এলাকায় কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিরোধী দলগুলি বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রার্থী পদ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিবাদ চাঁচলের রাজনৈতিক সমীকরণকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি