
আসানসোল, ১ এপ্রিল (হি.স.): আসানসোলের কালী পাহাড়ি এলাকায় একটি প্রাচীন মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরে মঙ্গলবার রাতে একদল দুষ্কৃতী হানা দেয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা মন্দিরে প্রবেশ করে মা কালী, ভগবান শিব এবং বজরংবলির প্রতিমাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। এই ঘটনা জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগার অভিযোগে জনরোষ তৈরি হয়। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে কেবল ভাঙচুর নয়, বরং তাঁদের ধর্মীয় আস্থার ওপর পরিকল্পিত হামলা বলে অভিহিত করেছেন এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এরপর তিনি আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি আসানসোল দক্ষিণ থানায় পৌঁছান এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় থাকাকালীন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিশ্বজিৎ হালদারের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
দোষীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার দাবিতে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক’শ বিজেপি কর্মী থানার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। অবশেষে রাত প্রায় ২টো নাগাদ বিজেপি নেতৃত্ব অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেয়। এদিকে স্থানীয় কাউন্সিলর মীনা কুমারী হাঁসদা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। এলাকার শান্তি বজায় রাখার জন্য ওয়ার্ড সভাপতি মনোজ হাজরা সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে গোটা ঘটনায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং দোষীদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি