
কলকাতা, ১ এপ্রিল, (হি.স.): রাজ্যের কৃষি সংকট ও আলু চাষীদের দুরবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করলেন দলের রাজ্য প্রধান মুখপাত্র অ্যাডভোকেট দেবজিৎ সরকার। সল্টলেকে বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বুধবার মূলত পশ্চিমবঙ্গের কৃষি পরিস্থিতি, বিশেষ করে আলু চাষীদের দুরবস্থা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি জানান, গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একাধিক আলু চাষীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। দাবি করা হয়, গত দেড় দশকে মোট ১৩৬ জন আলু চাষী আত্মহত্যা করেছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অত্যন্ত কম হওয়ার ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্তঃরাজ্য আলু রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব বেড়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি আলু ক্রয়ের পরিবর্তে ফড়ে ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “কৃষকদের উৎপাদিত আলু হিমঘরে সংরক্ষণ করতে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আলু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “প্রশাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে তারা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।”
দেবজিৎবাবু ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) চালু করা, কৃষি বীমার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
তিনি দাবি করেন, রাজ্যে কৃষি নীতির অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আলু, পেঁয়াজ, ধান, পাট সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেই একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, কৃষি ক্ষেত্রের পাশাপাশি মৎস্য ও পশুপালন ক্ষেত্রেও সঠিক নীতির অভাবে উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা রাজ্যের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা যথাযথভাবে পাচ্ছেন না।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত