(রাউন্ড আপ) আমলা বদলি নিয়ে কমিশনকে তোপ, এনআরসি ও বিপিএল কার্ড নিয়ে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি মমতার; সভা শেষে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা
নানুর/নবগ্রাম/বড়ঞা, ১ এপ্রিল (হি.স.): ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে বুধবার বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের নানুর এবং মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ও নবগ্রামের জনসভা থেকে তিনি একযোগে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


নানুর/নবগ্রাম/বড়ঞা, ১ এপ্রিল (হি.স.): ২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে বুধবার বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ঝোড়ো প্রচার সারলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের নানুর এবং মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ও নবগ্রামের জনসভা থেকে তিনি একযোগে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এবং কংগ্রেসকে আক্রমণ শানান। রাজ্যে আমলা বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং এনআরসি ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার বীরভূমের নানুরের পাপুড়িতে আল-আমীন মডেল স্কুল মাঠে দলীয় প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝির সমর্থনে সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে নির্বাচন কমিশনের রদবদল নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আইএএস -এর সঙ্গে আইএএস-এর ভাগ করেছেন, ডব্লিউবিসিএস ও আইপিএস আধিকারিকদের মধ্যেও বিভেদ তৈরি করছেন। উকুন বাছার মতো করে নিজেদের লোক খুঁজছেন? যতই লোক আনুন, সবাই বাংলার লোক, সবাই আমাদের লোক।” তিনি আরও যোগ করেন, অন্য রাজ্য থেকে পর্যবেক্ষক এনে লাভ হবে না কারণ ভোট দেবে সাধারণ মানুষ। “যতই আনো অবজার্ভার, শূন্য হবে বিজেপির দরবার,” বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ বা এসআইআর -এর আড়ালে আসলে এনআরসি-র প্রস্তুতি চালাচ্ছে বিজেপি। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তালিকায় মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাঁদের বিয়ের পর পদবি বা ঠিকানা বদলেছে। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই কি অনুপ্রবেশকারী? অনুপ্রেবেশ কোথাও হয়ে থাকলে তার দায় নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের। বিজেপি নাম দেখে নাম মুছে দিচ্ছে, আমি এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি।” মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের সভা থেকে তিনি কংগ্রেসকেও বিঁধে বলেন, এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে কংগ্রেস তৃণমূলের পাশে দাঁড়ায়নি।

বিজেপি গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে বলে নানুর থেকে সতর্ক করেন মমতা। তিনি দাবি করেন, বিহারে ভোটের আগে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো হয়েছিল, এখানেও সেই অছিলায় তথ্য নিয়ে টাকা কেটে নেওয়া হতে পারে। বড়ঞার সভা থেকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, নোটবন্দির সময় মা-বোনেদের কষ্টের কথা ভেবেই এই প্রকল্পের পরিকল্পনা তাঁর মাথায় এসেছিল। এটি কোনো দয়া নয়, বরং মা-বোনেদের জন্য তাঁর দেওয়া ‘উপহার’।

বক্তব্যের শেষে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে সমূলে উৎপাটন করার ডাক দেন মমতা। তিনি বলেন, “বিজেপিকে এবার এমনভাবে হারাতে হবে যাতে ওরা আর উঠে দাঁড়াতে না পারে। এবার বড় খেলা হবে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূলের কিছু নেতাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, তবে তৃণমূল মাথা নত করবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

এদিন ফের আবহাওয়া বিভ্রাটের মুখে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। বড়ঞার সভা শেষে নবগ্রামে যাওয়ার পথে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে তাঁর হেলিকপ্টার নামতে পারেনি। চালক ঝুঁকি না নিয়ে কপ্টারটিকে বড়ঞাতেই ফিরিয়ে আনেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথেই নবগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। গত বৃহস্পতিবারের কালবৈশাখীর পর এটি এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় আকাশপথের বিপত্তি।

মুখ্যমন্ত্রীর নবগ্রামের সভা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে পোমিয়া সংলগ্ন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি ডাম্পারের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ৪৫ জন কর্মী-সমর্থক জখম হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শিবপুর টোল প্লাজার অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande