
নয়াদিল্লি, ১২ এপ্রিল (হি.স.) : ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে চলা নৌবাহিনীর কমান্ডার সম্মেলনে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রস্তুতির বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। রবিবার জানা গেছে, আগামী ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত নয়াদিল্লির নৌবাহিনী ভবনে এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এই সম্মেলনে জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা লক্ষ্য অর্জনের কৌশলগত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতীয় নৌবাহিনীকে ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ‘পছন্দের নিরাপত্তা অংশীদার’ হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘর্ষ এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক শক্তির উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীর দ্রুত মোতায়েন ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সম্মেলনে প্রতিরক্ষা প্রধান (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হল তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও ইন্টার-অপারেবিলিটি বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতের সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা।
নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে ত্রিপাঠী শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন। এতে নীল জলসীমার সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোন ও আনম্যানড সিস্টেমের ব্যবহার এবং অপারেশনাল লজিস্টিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) রোডম্যাপ বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ডেটা-চালিত অপারেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হবে। সম্মেলনে ভারতীয় সামুদ্রিক নীতির চারটি মূল ভূমিকা অনুযায়ী নৌবাহিনীর প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই সম্মেলনের লক্ষ্য হল ধারাবাহিক অপারেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং স্বদেশীকরণ ও সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশলকে আরও শক্তিশালী করা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য