( রাউন্ড আপ) দুর্গাপুর থেকে সিন্ডিকেটবাজদের ‘উল্টো ঝুলিয়ে সোজা’ করার হুঁশিয়ারি শাহের, বেকার ও মহিলা ভাতার বড় ঘোষণা
দুর্গাপুর, ১৩ এপ্রিল ( হি. স.) : “মমতা সরকারের পতন মানেই অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা। ৫ মে রাত থেকে অনুপ্রবেশকারীরা পাততাড়ি গুটাতে শুরু করবে, নাহলে তাদের দেশছাড়া করা হবে।” সোমবার অন্ডালের খান্দরা এবং দুর্গাপুরের রোড-শো থেকে এভাবেই সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্
অমিত শাহ


দুর্গাপুর, ১৩ এপ্রিল ( হি. স.) : “মমতা সরকারের পতন মানেই অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা। ৫ মে রাত থেকে অনুপ্রবেশকারীরা পাততাড়ি গুটাতে শুরু করবে, নাহলে তাদের দেশছাড়া করা হবে।” সোমবার অন্ডালের খান্দরা এবং দুর্গাপুরের রোড-শো থেকে এভাবেই সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন তাঁর নিশানায় ছিল সিন্ডিকেট রাজ, অনুপ্রবেশ এবং দুর্নীতি।

বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে ‘মাফিয়া রাজ’ বলে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, “এই সিন্ডিকেট রাজ আসলে ‘ভাইপোর সিন্ডিকেট’। এর ভয়েই বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে। ৫ মে-র পর বালি ও কয়লার সিন্ডিকেট বাহিনীকে উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে এবং দুর্নীতিবাজদের জেলে পাঠানো হবে।” খনির ধস কবলিত এলাকার মানুষের জন্য ‘রানিগঞ্জ মাস্টার প্ল্যান’ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, ২৯ হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের কাজ বিজেপি সরকারই করবে। তাঁর কথায়, “মা-মাটি-মানুষ মানে এখন মাফিয়া, মাসল আর মানি পাওয়ার।”

বেকার ও মহিলা ভাতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’:

শিল্পাঞ্চলের যুবকদের মন জয়ে এদিন বড় ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে ৪টি বড় শিল্প শহর গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকার যুবকদের মাসে ৩,০০০ টাকা এবং মহিলাদের অ্যাকাউন্টে মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘টাকা কোথায়’ প্রশ্নের উত্তরে শাহ টিপ্পনি কেটে বলেন, “ভাইপোর দুর্নীতি করে পাওয়া অ্যাকাউন্টে যে বিপুল টাকা আছে, সেখান থেকেই এই ভাতার যোগান দেওয়া হবে।” পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ এবং বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শাহ বলেন, “মমতা দিদি বাধা দিলেও প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে।” তৃণমূলের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ভোটের দিন গুন্ডারা ঘরেই থাকুন, নয়তো ফল বেরোনোর পর খুঁজে খুঁজে জেলে ভরা হবে।”

দুর্গাপুরের চণ্ডীদাস এভিনিউ থেকে চণ্ডীদাস মার্কেট পর্যন্ত শাহের রোড-শো-কে কেন্দ্র করে গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমের লক্ষণ ঘড়ুইকে পাশে নিয়ে তিনি জনতাকে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে মোদী সরকারের হাত শক্ত করার আহ্বান জানান। বক্তব্যের শেষে রাম মন্দির, সিএএ এবং ইউসিসি প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলায় কোনও বিভেদকামী পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande