
ওয়াশিংটন, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : হরমুজ প্রণালী ঘিরে মার্কিন নৌবাহিনীর কড়া অবরোধের জেরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মোড়। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে ইরানের বন্দরগুলিতে নাকাবন্দির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি মার্কিন প্রশাসনের। ইসলামাবাদে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অবরোধ অমান্য করলে ইরানের জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই কড়া অবস্থানের জেরেই ইরান এখনও কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে বলে মার্কিন সূত্রের দাবি।
জানা গেছে, ইরান ইতিমধ্যেই আলোচনায় ফেরার আগ্রহ দেখিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, “এখন বল ইরানের কোর্টে।” আগামী বৃহস্পতিবার দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে নতুন করে বৈঠক শুরু হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রে খবর, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার আগেই সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান ফের বৈঠকের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে, পাশাপাশি জেনেভার নামও আলোচনায়।
মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে, আগের আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদের কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় বৈঠক ভেঙে যায়। এখন তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতির উপরই পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।
এদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা ছাড়ে, তবে আমেরিকা স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী। এই আবহে ব্রিটেনের উপ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ওয়াশিংটনে ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘর্ষবিরতি বজায় রাখার উপর জোর দেন। রাশিয়াও এই ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাব অনুযায়ী ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গ্রহণের বিষয়টি এখনও খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
অন্যদিকে, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইজরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন। ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম এই ধরনের বৈঠক হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য