লোকসভায় পাস হলো না মহিলা সংরক্ষণ বিল, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ সরকার
নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল ( হি. স.) : ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নাটকীয় মোড়। লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলো মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬। শুক্রবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে
লোকসভা


নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল ( হি. স.) : ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নাটকীয় মোড়। লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলো মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬। শুক্রবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি পাস করা সম্ভব হলো না। এই ঘটনার পরেই লোকসভার অধিবেশন শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয়।

এদিন বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির সময় দেখা যায়, এর পক্ষে ভোট পড়েছে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩০ জন সদস্য। মোট ৫২৮ জন সাংসদ এই ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সংবিধানের ৩৬৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের ক্ষেত্রে সদনের মোট সদস্য সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান ভোটাভুটিতে বিলটি সেই নির্দিষ্ট কোটা পূরণ করতে পারেনি।

বিলটি পাস না হওয়ায় এর সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি বিল— 'কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬' এবং 'সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল, ২০২৬' প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান যে, এই তিনটি বিল একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল, তাই এদের আলাদাভাবে দেখা সম্ভব নয়।

কিরেণ রিজিজু এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, নারীদের অধিকার দেওয়ার লক্ষ্যে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল, কিন্তু বিরোধীরা এতে সমর্থন না দিয়ে বাধার সৃষ্টি করল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার নারীদের প্রাপ্য অধিকার দিতে বদ্ধপরিকর।

অন্যদিকে, আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, দেশের মহিলারা দেখছেন কারা তাঁদের অধিকারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভারতীয় সংবিধান ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণের অনুমতি দেয় না।

উল্লেখ্য যে, নিয়ম অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে সাধারণ ধ্বনি ভোটের বদলে 'ডিভিশন' বা মত বিভাজনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়, যেখানে প্রতিটি ভোট স্পষ্টভাবে গণনা করা হয়। এই বিলটি বাতিল হওয়ায় আপাতত বিশ বাঁও জলে ঝুলে রইল দেশের আইনসভাগুলোতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ভবিষ্যৎ।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande