‘অজুহাত’ দিয়ে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করছে ইন্ডি জোট : অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল (হি. স.) : মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল নিয়ে লোকসভায় হওয়া আলোচনার জবাবে বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের শরিক দলগুলি সরাসরি না পারলেও নানা
অমিত শাহ


নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল (হি. স.) : মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল নিয়ে লোকসভায় হওয়া আলোচনার জবাবে বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী ‘ইন্ডি’ জোটের শরিক দলগুলি সরাসরি না পারলেও নানা ‘অজুহাত’ এবং ‘যদি-কিন্তু’র আড়ালে আসলে মহিলা সংরক্ষণেরই বিরোধিতা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই আলোচনায় ১৩০ জন সদস্যকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ৫৬ জন ছিলেন মহিলা সাংসদ। আলোচনার সময় কোনও দলই সরাসরি এই সাংবিধানিক সংশোধনীর বিরোধিতা করার সাহস দেখায়নি, তবে অধিকাংশ বিরোধী দল নানা শর্ত আরোপ করে বিলটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।

অমিত শাহের অভিযোগ, যারা বর্তমানে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের বিরোধিতা করছে, তারা আসলে পরোক্ষভাবে তফশিলি জাতি ও তফশিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের আসন বৃদ্ধিরও বিরোধিতা করছে। তিনি বলেন, সংবিধানের মূল লক্ষ্যই হলো জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন মহিলা সংরক্ষণের সাথেই সম্পন্ন করা।

‘এক ব্যক্তি, এক ভোট, এক মূল্য’—সংবিধানের এই আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শাহ জানান, বর্তমানে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটার সংখ্যার মধ্যে বিশাল বৈষম্য রয়েছে। কোথাও ২০ লক্ষ ভোটার আবার কোথাও মাত্র ৬ লক্ষ। ভোটের এই মূল্যের ব্যবধান দূর করতে তিনি বিরোধীদের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় সমর্থন করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ২০২৬ সালের পরবর্তী জনগণনা এবং তার ভিত্তিতে হওয়া সীমানা পুনর্নির্ধারণের পরেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব। এই নিয়ম আগে থেকেই আইনে রয়েছে, বর্তমান সরকার এটি নতুন করে যুক্ত করেনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, সত্তরের দশকে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল, যার ফলে জনসংখ্যা বাড়লেও জনপ্রতিনিধিত্বে বদল আসেনি। দেশের জনসংখ্যা ৫৬ কোটি থেকে বেড়ে ১৪০ কোটি হলেও লোকসভা আসন সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। সরকার এখন এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে দায়বদ্ধ।

জনগণনা প্রসঙ্গে অমিত শাহ জানান, করোনার কারণে এটি পিছিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এখন জনগণনার সময় এসেছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, আসন্ন জনগণনায় জাতিগত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এই বিষয়ে বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও তিনি পাল্টা দাবি করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande