রাউন্ডআপ...মমতাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতেই হবে, নইলে বাংলাদেশি মুসলিমরা বাংলা দখল করে নেবে : হিমন্তবিশ্ব
- বাংলাকে বাঁচাতে সমূলে উৎখাত করতে হবে টিএমসি-কে : অসমের মুখ্যমন্ত্ৰী - মমতার ‘বহিরাগত’ মন্তব্যকে ‘ভণ্ডামি’, কালিম্পঙে বলেছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা - ‘টিএমসি-র মানে টেরর, মাফিয়া এবং করাপশন’ - ''মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কেন নারী শক্তি বিলের বিরোধিতা?’
নির্বাচনী সমাবেশে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা


- বাংলাকে বাঁচাতে সমূলে উৎখাত করতে হবে টিএমসি-কে : অসমের মুখ্যমন্ত্ৰী

- মমতার ‘বহিরাগত’ মন্তব্যকে ‘ভণ্ডামি’, কালিম্পঙে বলেছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা

- ‘টিএমসি-র মানে টেরর, মাফিয়া এবং করাপশন’

- 'মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কেন নারী শক্তি বিলের বিরোধিতা?’, দিনহাটায় হিমন্তবিশ্বের তোপ

কালিম্পং / কোচবিহার, ১৮ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতেই হবে, নইলে বাংলাদেশি মুসলিমরা রাজ্য দখল করে নেবে, বাংলাকে বাঁচাতে মমতা দিদি নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্ৰেস (টিএমসি)-কে সমূলে উৎখাত করতে হবে, বলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

আজ শনিবার কালিম্পং এবং দিনহাটায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে হিমন্তবিশ্ব শর্মা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিএমসি-সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র হামলা করে বলেন, রাজ্য সরকার বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যের সম্পদ ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাকে বাঁচাতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরাতেই হবে, না-হলে ভবিষ্যতে বাংলা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

কোচবিহার জেলার অন্তর্গত দিনহাটার সংহতি ময়দানে বিজেপি-প্রার্থী অজয় রায়ের সমর্থনে আয়োজিত আরেক বিশাল জনসভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

দিনহাটার সমাবেশে সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হতে না পারা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে জোরদার সওয়াল করেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি প্রশ্ন তুলেন, 'একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কেন নারী শক্তি বিলের বিরোধিতা? মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর দল টিএমসি গতকাল এই বিলের বিরোধিতা করেছে, কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে একজন নারী হয়েও কেন যে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করছেন, তা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়।'

এই সভা থেকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ (২০০-এর বেশি আসন) করবে। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প সহ ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হবে। এছাড়া বাংলাদেশ সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি।

আজকের সব সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গে অবাধ অনুপ্রবেশে উদ্বেগ ব্যক্ত করে হিমন্তবিশ্ব বলেন, অসম ও ত্রিপুরার মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সক্ষম হলেও পশ্চিমবঙ্গে দেদার হচ্ছে অবৈধ অনুপ্রবেশ। তাঁর অভিযোগ, ভোটব্যাংকের রাজনীতি করতে গিয়ে মমতা দিদি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যের কোষাগার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সম্পর্কে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যদি ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে, তা-হলে ধরে ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার করা হবে। সিল করা হবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। অসম ও ত্রিপুরায় বন্ধ হয়েছে অনুপ্রবেশ। এবার বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ একত্রে সমস্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সংস্থাপন করবে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে টিএমসি সরকারের তুলোধোনা করে টিএমসি-র মানেও ব্যাখ্যা করেছেন হিমন্তবিশ্ব। তিনি বলেন, ‘টিএমসি’ মানে ‘টেরর, মাফিয়া এবং করাপশন’।

ড. শর্মা বলেন, মমতার শাসনামলে গোটা রাজ্যের অবস্থা আজ ভয়াবহ বিপদ ও ক্ষতির মুখে পড়েছে। উত্তরবঙ্গ সহ সমগ্র পশ্চিমবাংলায় কোনও উন্নয়ন নেই। কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সবঅর্থ সাবাড় করে দেওয়া হচ্ছে। তাই রাজ্যে প্রয়োজন ক্ষমতার পরিবর্তন।

গোর্খাল্যান্ড সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে সাংবিধানিক সমাধানের মাধ্যমে গোর্খা জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিএমসি-সুপ্রিমো মমতার ‘বহিরাগত’ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। ড. শর্মা বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা সারা দেশে নির্বাচনী প্রচার করেন, এটাই স্বাভাবিক। ‘আমরা কীভাবে বহিরাগত? তিনিও তো অসমে যান। তৃণমূল কংগ্রেস অসমেও নির্বাচনে লড়ছে। তা-হলে এত ভণ্ডামি কেন? এই ভণ্ডামি চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, মমতা ব্যানার্জি প্রায়ই তাঁর ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম উল্লেখ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অরুচিকর ভাষা প্রয়োগ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঈশ্বরের নামের চেয়েও বেশি মোদী এবং অমিত শাহের নাম নেন, কটাক্ষ করেন ড. শর্মা।

এছাড়া অসমে তাঁর সরকার কর্তৃক চলমান বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে এর ছিটেফোটাও যে বংলায় নেই, সে সবের তথ্য ভাষণে বলেছেন। অসমে মেধার ভিত্তিতে বিনা ঘুষে দু-লক্ষাধিক যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি, মহিলাদের স্বনির্ভর করতে নানা উদ্যোগ, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পঠন-পাঠনের ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি বহু প্রকল্প ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত করা হয়েছে বলে সমাবেশে বলেছেন ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande