
‘আমার বিরুদ্ধে মমতা দিদি অভিযোগ করেছেন, আমি কিন্তু ভয় পাচ্ছি না’, বলেন হিমন্তবিশ্ব
কলকাতা, ১৮ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গে একটি নির্বাচনী সমাবেশে ‘সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং বিভেদ সৃষ্টিকারী’ মন্তব্য করেছেন বলে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে। এদিকে অভিযোগের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ড. শর্মা বলেন, ‘আমি এই অভিযোগ নিয়ে চিন্তিত নই। মমতা দিদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, আমি কিন্তু ভয় পাচ্ছি না।’
নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়েরকৃত চিঠিতে টিএমসি নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন, গত ১৬ এপ্রিল কোচবিহারে এক প্রচারসভায় অংশগ্রহণ করে হিমন্তবিশ্ব শর্মা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগ, ড. শর্মা নাকি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে গরুর মাংসের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে, এই আশঙ্কায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভীত। তিনি নাকি গোমাংস ভক্ষণকে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং পাচার ও নির্দিষ্ট এলাকায় বিফ দোকান স্থাপনের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। টিএমসি এ সব বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করেছে।
টিএমসির দাবি, এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দেয়। তাঁদের বক্তব্য, এই মন্তব্যের ফলে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সন্দেহ ও বৈরিতা সৃষ্টি হতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হিমন্তবিশ্ব শর্মার মন্তব্য ফৌজদারি ভীতি প্রদর্শন এবং যাচাইবিহীন অভিযোগের শামিল, যা মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (এমসিসি)-এর লঙ্ঘন। এছাড়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ও রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অ্যাক্ট-এর অধীনে গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ ছড়ানো, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং নির্বাচনে অযাচিত প্রভাব বিস্তারের মতো ধারার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
টিএমসি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে শো-কজ নোটিশ জারি, কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি চলমান নির্বাচনী প্রচারে এ ধরনের মন্তব্য যাতে আর না হয়, তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থারও দাবি জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস