
পুরুলিয়া, ২০ এপ্রিল (হি.স.): ভোট যত এগোচ্ছে ততই বাংলায় বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। সোমবার পুরুলিয়ার বলরামপুরে তৃণমূল প্রার্থী শান্তিরাম মাহাতোর সমর্থনে জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করলেন।
তিনি বলেন, এখানকার সাংসদ যে সুনিশ্চিত করতে পারেনা নিয়ম মেনে ট্রেন চলবে, সে আপনাদের উন্নয়ন দেবে কীভাবে?
অভিষেক বলেন, আমি পুরুলিয়াতে জানুয়ারি মাসে এসেছিলাম। আমি একাধিকবার বলেছি যে এখানে যে সব ট্রেন চলে, বিশেষ করে এখন সরাসরি বলরামপুর হয়ে অযোধ্যায় ঢোকে কোন ট্রেন সময়ে ঢোকে না। হাওড়া চক্রধরপুর এক্সপ্রেস হোক, বা পুরুলিয়া এক্সপ্রেস হোক বা রূপসী বাংলা হোক কোনও ট্রেন সময়ে ঢোকেনা। হাওড়া চক্রধরপুর এক্সপ্রেস ভোর সাড়ে ৬টায় পুরুলিয়া ঢোকার কথা কিন্তু পরশুদিন ট্রেন পুরুলিয়া ঢুকেছে ১১.৪৩ অর্থাৎ ৫ ঘন্টার বেশি লেট। আমি আজ বললাম বলে দেখবেন কয়েকদিন সময়ে ট্রেন ঢুকবে। পুরুলিয়া এক্সপ্রেস রাত ১০টায় ঢোকার কথা। ১৮ তারিখ ঢুকেছে রাত ১২.৩৪ অর্থাৎ দুই ঘন্টা ২০ মিনিট লেট আর গতকাল ঢুকেছে রাত ১. ৪৩ অর্থাৎ ৩ ঘন্টা লেট। এখানকার সাংসদ যে সুনিশ্চিত করতে পারেনা নিয়ম মেনে ট্রেন চলবে, সে আপনাদের উন্নয়ন দেবে কীভাবে? মোদির গ্যারান্টি মানে জিরো ওয়ারেন্টি আর তৃণমূলের গ্যারান্টি মানে লাইফটাইম ওয়ারেন্টি। তাই শান্তিরাম মাহাতোকে জেতান আর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখুন। আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। সেটা আপনারা দেখেছেন। ৫ বছর ক্ষমতায় ছিল বিজেপি এখানে। সাংসদ ও বিধায়ক বিজেপির, কী পেয়েছে এখানে বাসিন্দারা। ১৬ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করেছেন, যদি একটা রাজ্যে করে দেখাতে পারে, তাহলে আমার চ্যালেঞ্জ থাকল আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কুড়মি সম্প্রদায়কে বঞ্চনা, কুড়মালি ভাষাকে আজও স্বীকৃতি না দেওয়া, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রয়োগ করে আদিবাসীদের ঐতিহ্যে আঘাতের চেষ্টার অভিযোগও শোনা যায় অভিষেকের মুখে। তিনি বলেন, যাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে, তাদের বলব তৃণমূলে শান্তিও আছে, রামও আছে। শান্তিরাম মাহাতোই আমাদের প্রার্থী।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ