চুড়াইবাড়িতে অপহরণ ও সাইবার অপরাধে অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার নাবালিকা
চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২০ এপ্রিল (হি.স.): ত্রিপুরার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চুড়াইবাড়ি থানার অন্তর্গত এলাকায় সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও সাইবার অপরাধের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা অভিয
অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার


চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২০ এপ্রিল (হি.স.): ত্রিপুরার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চুড়াইবাড়ি থানার অন্তর্গত এলাকায় সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও সাইবার অপরাধের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা অভিযুক্তকে অসম থেকে গ্রেফতার করা হয়, যা নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত যুবকের নাম আসু দেবনাথ (পিতা: অবন্তি দেবনাথ)। তার বাড়ি অসমের শ্রীভূমি জেলার রাতাবাড়ি থানা এলাকার গম্ভীরা আমতলা গ্রামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

চুড়াইবাড়ি থানার ওসি দেবব্রত বিশ্বাস জানান, গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হলেও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পকসো আইনও যুক্ত করা হয়, কারণ ঘটনায় জনৈকা নাবালিকার সংশ্লিষ্টতা সামনে আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নদীয়াপুর শনিছড়া এলাকা থেকে জনৈকা নাবালিকাকে অপহরণ করার পাশাপাশি অভিযুক্ত একাধিক সাইবার অপরাধের সঙ্গেও জড়িত ছিল। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও হাতে আসে।

তবে গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত আসু দেবনাথ ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিল। প্রথমে সে নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেঙ্গালুরুতে আশ্রয় নেয়। সেখানে বিভিন্ন থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে অসমের গম্ভীরা এলাকায় তাঁর অবস্থানের খবর পেয়ে চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ অভিযান চালায়। এই অভিযানে শ্রীভূমি জেলার রাতাবাড়ি থানার নীভিয়া ওয়াচ পোস্টের কর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহার করে সে সাইবার অপরাধ চালাত বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

এদিকে, অপহৃত নাবালিকাকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার ধৃতকে কদমতলা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ধর্মনগর জেলা ও দায়রা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর ধারায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande