
পূর্ব মেদিনীপুর, ২১ এপ্রিল (হি.স.): মঙ্গলবার সকাল থেকে একের পর এক জনসভা করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কার্শিয়াং থেকে শুরু করেছিলেন, শেষ সভা চণ্ডীপুরে। কার্শিয়াঙের পর শাহের সভা ছিল কুলটিতে। সেই সভা সেরে তিনি যান শালবনিতে। সেই সভার পরেই তিনি প্রচার করতে আসেন চণ্ডীপুরে। চণ্ডীপুরের সভায় পৌঁছনোর পর শাহকে বরণ করে নেন বিজেপির নেতারা। ছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীও।
চণ্ডীপুরের সভা থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানান শাহ। তিনি বলেন, দিদি, টাটা বাই বাই। আপনার যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। এ বার এখানে পদ্মফুল ফুটবে। শাহ উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, বাংলাকে অনুপ্রবেশমুক্ত করতে হবে কি হবে না? দিদি পারবেন? ভাইপো পারবেন? অনুপ্রবেশকারীদের যাঁরা ঢুকিয়েছেন, তাঁরা পারবেন না। বাংলার সীমানা ওরা খুলে রেখেছে। আমাদের জেতান। ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা সীমানা বন্ধ করে দেব। তাঁর হুঙ্কার, ৪ মে গণনা। ৫ মে বিজেপি সরকার গড়বে। অনুপ্রবেশকারীদের বলছি, বাংলাদেশ যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিন। চণ্ডীপুরের পানের রিসার্চ সেন্টার তৈরি করবে ভারত সরকার, জনসভা থেকে জানান শাহ। শাহ বলেন, কাটমানি, সিন্ডিকেট-রাজ ধ্বংস করা হবে।
শাহ আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভোটের সময় গুন্ডাদের ভয় করবেন না। কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, মমতা দিদির গুন্ডা ভোটারদের বিরক্ত করে। শাহ বলেন, সেই গুন্ডাদের বলছি, ২৩ তারিখে বাইরে যেন না বার হয়। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার আসছে। পাতাল থেকে খুঁজে এনে জেলের ভিতরে ভরা হবে। গুন্ডাদের বলছি, এখনই লুকিয়ে পড়ো। ৫ তারিখের পর পৃথিবীর কোথাও লুকোনোর জায়গা পাবে না। মমতা এবং তাঁর চ্যালা হুমায়ুন কবীর বাংলার মাটিতে বাবরি মসজিদ তৈরি করতে চাইছেন। কান খুলে শুনে রাখো, বিজেপির সরকার আসছে। এখানে কোনও বাবরি মসজিদ তৈরি হবে না।
অমিত শাহ বলেন, বিজেপিই ভারত থেকে সন্ত্রাসবাদ এবং মাওবাদীমুক্ত করেছে। বিজেপিই সারা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী তাড়ানোর কাজ করবে।
অনুপ্রবেশকারীদের কোথাও ছাড়া হবে না। মমতাদি, বাঁচানোর হয় বাঁচিয়ে নিন। কিন্তু কিছু করতে পারবেন না। চণ্ডীপুরের সভা থেকে শাহ বলেন, বিজেপি-কে সরকারে আনুন। এখানে ইউসিসি (অভিন্ন দেওয়ানি বিধি) চালু করবে। চার বিয়ে করা যাবে না। বিজেপি সরকার চার বিয়ে এবং তিন তালাক বন্ধ করে দেবে।
চণ্ডীপুরের সভা থেকে শাহ বলেন, বাংলায় বেকারত্ব দূর করা, উন্নয়ন— কিছুই করবেন না মমতা। তিনি একটা কাজের জন্যই রয়েছেন। তা হল ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চান। আপনারা কি চান, ভাইপো মুখ্যমন্ত্রী হোক? তার পরেই শাহের হুঙ্কার, চিন্তা করবেন না। ভাইপোও টিকিট কেটে তৈরি রয়েছে। ৪ তারিখের পর পালিয়ে যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ