
হাফলং (অসম), ২১ এপ্রিল (হি.স.) : ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ডিমা হাসাও জেলার মধ্য দিয়ে চলমান শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর মহাসড়ক নির্মাণকাজ পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছেন হারাঙ্গাজাও-দলাইচুঙ্গা গ্রামের মানুষ।
মহাসড়কের জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার চারলেন সড়ক নির্মাণকাজ করতে গিয়ে দলাইচুঙ্গা গ্রামের বহু মানুষের কৃষি জমি, বাগান ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। গত ১৪ এপ্রিল দলাইচুঙ্গা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলি তাদের ক্ষতিপূরণ দুদিনের মধ্যে যদি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (নাহাই) মিটিয়ে না দেয়, তা-হলে পুনরায় মহাসড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা।
কিন্তু গ্রামবাসীদের ওই হুঙ্কারের পরও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে দেন।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণের ইস্যুতে ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন, উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের ভূমি ও রাজস্ব বিভাগ এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এখন পর্যন্ত চারবার জরিপ চালানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গত দু-মাস আগে গ্রামবাসীরা এই মহাসড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সে সময় ডিমা হাসাও জেলার তদানীন্তন জেলাশাসক মনীন্দ্রনাথ নাগাতে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীদের ক্ষতিপূরণ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাঁদের ক্ষতিপূরণ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ মিটিয়ে দেয়নি।
তাঁদের অভিযোগ, গত ১৪ এপ্রিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ-এর প্রকল্প-অধিকর্তা যোগেশ রাওয়াত দলাইচুঙ্গা গ্রামে ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে পুনরায় জরিপ করতে যান। তখন গ্রামবাসীরা যোগেশ রাওয়াতকে দু-দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে। অথচ তার পর পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। নাহাই তাঁদের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দিতে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। তাই আজ থেকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পথে নেমে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব