
বাঁকুড়া, ২২ এপ্রিল ( হি. স.) : বাঁকুড়া জেলায় এবার নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত মিলছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এর জেরে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। তবে অধিকাংশ আসনে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা বিধানসভাগুলির ক্ষেত্রে গত ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফলের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, সোনামুখী ও ওন্দা—এই পাঁচটি কেন্দ্রে তখন বিজেপি জয়ী হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষ্ণুপুর ও কোতুলপুরের বিধায়করা দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। এই দলবদলকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু ভোটারের অসন্তোষের কথাও শোনা যাচ্ছে। তবুও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পুনরায় টিকিট দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, বিষ্ণুপুরে পৌরসভার কাজকর্ম নিয়ে একাংশ মানুষের অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে ওন্দা ও সোনামুখীতে বিজেপি বিধায়কদের এখনও জনপ্রিয়তা বজায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্দাসেও বিজেপির সংগঠনগত ভিত্তি মজবুত রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। অন্যদিকে বড়জোড়া কেন্দ্রে গতবার জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার সেখানে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে শাসকদল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়াতে বিদায়ী বিধায়ককে সরিয়ে সদ্য দলে যোগ দেওয়া এক পরিবহন ব্যবসায়ীকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনিও এলাকায় পরিচিত মুখ হওয়ায় এই কেন্দ্রে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের ছয়টি বিধানসভা আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিজেপি আগের ফল ধরে রাখতে পারে বলে একাংশের ধারণা। বাকি একটি আসনে জোর লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছয়টি বিধানসভা আসনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রাইপুর কেন্দ্রে তৃণমূল তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাঁকুড়া, ছাতনা, শালতোড়া ও রানীবাঁধ—এই চারটি কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। ২০২১ সালে বাঁকুড়া, ছাতনা ও শালতোড়ায় বিজেপি এবং রানীবাঁধে তৃণমূল জয়ী হয়েছিল। বিজেপি এই তিনটি কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়কদেরই পুনরায় প্রার্থী করেছে এবং তাঁদের স্থানীয় জনপ্রিয়তা এখনও রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। অপরদিকে তৃণমূলও এই কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শালতোড়া কেন্দ্রেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি একটি জনসভায় শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্মসংস্থান ইস্যুও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদায়ী বিধায়িকার সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁকে এখনও প্রাসঙ্গিক রেখেছে বলেও আলোচনা রয়েছে। শাসকদল এই কেন্দ্রেও সামাজিক সমীকরণ মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাই করেছে। রানীবাঁধ কেন্দ্রে তৃণমূল এবার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। বিদায়ী বিধায়িকা তথা রাজ্যের এক মন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন মুখ হিসেবে এক অধ্যাপিকাকে প্রার্থী করা হয়েছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জেলার সদর বাঁকুড়া কেন্দ্রটি প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই আসন ঘিরেও বাড়তি নজর রয়েছে। বর্তমানে এই আসন বিজেপির দখলে থাকলেও শাসকদল তা পুনর্দখলের জন্য সক্রিয় প্রচার চালাচ্ছে। ফলে এখানেও জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, বাঁকুড়ার একাধিক কেন্দ্রে সমানে সমানে লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। তবে সামগ্রিকভাবে আসনসংখ্যার দিক থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট