
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২২ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার ফটিকরায়ের কৃষ্ণনগর এলাকায় অবস্থিত একটি ইটভাটায় শিশু শ্রমের গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি নির্দেশ ও আইনকে অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণনগরের ওই ইটভাটায় শিশুদের দিয়ে ভারী কাজ করানো হচ্ছিল। ইটভাটায় আসা বিভিন্ন গাড়িতে ইট তোলা, বহন করা সহ একাধিক শ্রমসাধ্য কাজে শিশুদের নিয়োজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চর্চিত।
এই অভিযোগের মুখে ইটভাটার মালিক গৌতম সাহা প্রথমে দাবি করেন, তাঁর ভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের পরিবারের শিশুরা মাঝে মাঝে তাঁদের বাবা-মাকে কাজে সাহায্য করে। তিনি জানান, ভাটায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন বহিঝরাজ্যের শ্রমিক কাজ করেন এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা শিশুরাই নাকি স্বেচ্ছায় কিছু কাজে হাত লাগায়। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, শিশুদের প্রতি তাঁর সহানুভূতি রয়েছে এবং তিনি তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন।
তবে পরবর্তীতে প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে আসা কিছু গাড়িচালক শিশুদের নিয়ে এসে ইট তোলার কাজ করিয়েছে এবং এতে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। এমনকি তিনি এটিকে ব্যবসায়িক শত্রুতার ফল বলেও উল্লেখ করেন। মালিকের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
এ প্রসঙ্গে কুমারঘাট মহকুমার শ্রম পরিদর্শক তন্ময় বড়ুয়া জানান, শিশু শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচে কোনপ শিশুকে কাজে নিয়োজিত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও বিপজ্জনক বা ভারী কাজে যুক্ত করা আইনত অপরাধ। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিশুদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠানো হয় এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
এদিকে প্রকাশ্যে এভাবে শিশু শ্রম চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ