(লিড)হরমুজে উত্তেজনা চরমে, জাহাজে গুলিবর্ষণ ইরানের; ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে অনাস্থা
কুয়েত সিটি/তেহরান/ওয়াশিংটন, ২২ এপ্রিল (হি.স.): হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হলো। মার্কিন সামরিক অবরোধের মধ্যেই ইরান আবারও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। হামলায় জাহাজটির ‘ব্রিজ’ বা নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছ
(লিড)হরমুজে উত্তেজনা চরমে, জাহাজে গুলিবর্ষণ ইরানের; ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে অনাস্থা


কুয়েত সিটি/তেহরান/ওয়াশিংটন, ২২ এপ্রিল (হি.স.): হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হলো। মার্কিন সামরিক অবরোধের মধ্যেই ইরান আবারও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। হামলায় জাহাজটির ‘ব্রিজ’ বা নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান, জানিয়েছে—এই প্রস্তাবে তাদের ‘রত্তি পরিমাণও বিশ্বাস নেই’।

ইরান উপকূল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে গুলিবর্ষণ করা হয়। এর আগে ওমান উপকূলের কাছে পনামার পতাকাবাহী ‘ইউফোরিয়া’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা সামনে আসে। এই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি সংস্থার মালিকানাধীন এবং সৌদি আরবের জেড্ডা বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। হামলার পর জাহাজটি থামিয়ে দিতে বাধ্য হন ক্যাপ্টেন।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ দাবি করেছে, সমুদ্র আইন মেনে চলতে বাধ্য করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নতুন নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হামলাটি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের একটি গানবোট থেকে চালানো হয়েছে এবং এতে জাহাজের ব্রিজ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে গ্রিসের মালিকানাধীন একটি জাহাজেও একই ধরনের হামলার অভিযোগ উঠেছিল।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত প্রশমনে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও, একইসঙ্গে ইরানি বন্দরগুলির উপর অবরোধ জারি রাখার কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, তেহরান আলোচনার প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে।

এই অবস্থায় ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানি বন্দর অবরোধ আসলে ‘যুদ্ধের সমান’ এবং এটি যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, “আমরা জানি কীভাবে জবাব দিতে হয়। ট্রাম্পের কথায় আমাদের কোনও আস্থা নেই।”

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের একটি জাহাজ বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছে—সেটি মুক্তি দিলে তবেই নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।

জাহাজের ‘ব্রিজ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ

জাহাজের ব্রিজ হল তার মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা কমান্ড সেন্টার, যেখান থেকে ক্যাপ্টেন ও ন্যাভিগেশন অফিসার পুরো জাহাজ পরিচালনা করেন। এটি জাহাজের সর্বোচ্চ অংশে থাকে, যাতে চারপাশ স্পষ্ট দেখা যায়। এখানেই স্টিয়ারিং, ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি—যেমন রাডার, জিপিএস, অটো-পাইলট—থাকে। জরুরি অবস্থায় এখান থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সংকেত পাঠানো হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, যেমন গাড়ির ড্রাইভারের সিট বা বিমানের ককপিট—জাহাজের ক্ষেত্রে তেমনই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ব্রিজ।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande