ধর্মনগরে উন্নয়নের নামে নয়ছয়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি গ্রামবাসীর
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৩ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার যুবরাজনগর বিধানসভার অন্তর্গত বিলথৈ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহাপ্রভু আখড়াকে ঘিরে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম ও অর্থ নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বৈষ্ণব ভুভেস দাস
কাজ না করিয়ে সাইনবোর্ড


ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৩ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার যুবরাজনগর বিধানসভার অন্তর্গত বিলথৈ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহাপ্রভু আখড়াকে ঘিরে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম ও অর্থ নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বৈষ্ণব ভুভেস দাস দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমের সামনেও বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পানিসাগর কৃষি উন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে প্রায় দেড় গন্ডা জমিতে একটি পুকুর খননের কাজ করা হয়। তবে বাস্তবে পুকুরটির গভীরতা মাত্র দেড় থেকে দুই ফুট হওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অথচ এই প্রকল্পে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং সেই অনুযায়ী সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও, আখড়ার পেছনের অংশে মাটি লেভেলিংয়ের কাজ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, যেখানে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে, সেখানে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ লক্ষ ৯০ হাজার ২০২ টাকা। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, আখড়ার নিজস্ব জমি থাকা সত্ত্বেও পাশের এক ব্যক্তির কাছে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, যা পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

অন্যদিকে, রাস্তার পাশে আখড়ার জন্য ড্রেন নির্মাণের নামেও ব্যয়ের সাইনবোর্ড লাগানো হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি প্রায় নেই বললেই চলে বলে দাবি স্থানীয়দের।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে কমিউনিটি হল নির্মাণকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে মূল ভবনের কাজ সম্পন্ন হলেও পরবর্তীতে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে রাউন্ড বারান্দা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু সেই কাজেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আখড়ার কয়েকটি গাছ কেটে সেই কাঠ দিয়ে বারান্দার ছাদ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ, যদিও বৈষ্ণবদের আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত সেই গাছের কোনও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়নি।

বর্তমানে কমিউনিটি হলের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।

ভুভেস দাস দাবি করেছেন, দ্রুত কমিউনিটি হলের কাজ সম্পূর্ণ করার পাশাপাশি পুকুর খনন, মাটি লেভেলিং এবং বারান্দা নির্মাণসহ সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

এই ঘটনাকে ঘিরে গ্রামীণ উন্নয়নের নামে পরিচালিত প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাজের গুণগত মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এলাকাজুড়ে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande