
ওয়াশিংটন, ২৮ এপ্রিল (হি.স.): মার্কিন স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা দফতর অচলাবস্থা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কংগ্রেসকে ১ জুনের মধ্যে অর্থায়ন বিল পাস করার কড়া সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। দুই মাসের বেশি সময় ধরে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের তীব্র মতপার্থক্যের জেরেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের বাধার কারণেই ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিএইচএস-এর পূর্ণ অর্থায়ন বন্ধ রয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল পর্যাপ্ত অর্থ পাচ্ছে না, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, দীর্ঘ অচলাবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যেই মাটিতে কাজ করা সংস্থাগুলিতে পড়ছে। বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থা ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ কর্মীসংকট ও বেতনহীনতার সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বড় বড় বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এই অচলাবস্থার মূল কারণ অভিবাসন নীতি নিয়ে মতবিরোধ। ডেমোক্র্যাটরা সংস্কার ছাড়া অর্থায়নে রাজি নয়, বিশেষ করে গণ-নির্বাসন নীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা কোনও শর্ত ছাড়া বিল পাশের পক্ষে।
এদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন-সহ রিপাবলিকান নেতৃত্ব ডেমোক্র্যাটদের শর্ত মানতে নারাজ। তবে দলের মধ্যেও কিছু মতভেদ রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ার কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের প্রস্তাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১ জুনের সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এই অচলাবস্থা ভাঙবে নাকি আরও গভীর হবে সেই প্রশ্নেই নজর এখন মার্কিন রাজনীতিতে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য