
ঢাকা, ২৮ এপ্রিল (হি. স.) : জঙ্গি হামলা ও বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কায় সোমবার থেকে বাংলাদেশের ৮টি বিমানবন্দরের সবকটিতেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) সতর্কবার্তা পাঠানোর পর রবিবার রাতে এক জরুরি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–সহ দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ইউনিফর্মধারী নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভিআইপি টার্মিনাল, ইমিগ্রেশন, কার্গো ভিলেজ এবং লাউঞ্জগুলোতে অতিরিক্ত প্রহরা বসানো হয়েছে। যাত্রীদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও চলছে বাড়তি তল্লাশি। মঙ্গলবারও তা অব্যাহত আছে।
পুলিশের গোপন সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফতর, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং শাহবাগ চত্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর নামে এক জঙ্গির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জানা গেছে, সশস্ত্র বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তারা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার ছক কষছিল।
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, বিমান বাহিনীর কর্মরত ও চাকরিচ্যুত কিছু কর্মকর্তা পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছে। এই ঘটনায় বিমান বাহিনীর ২ জন স্কোয়াড্রন লিডারসহ ১০ জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর কয়েকজন সন্দেহভাজন সদস্যের ওপরও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে।
দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জনসমাগম স্থল ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি