
কলকাতা, ২৮ এপ্রিল ( হি. স.) : মঙ্গলবার রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার এই দফায় কলকাতার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভোট নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই দফায় মোট ১৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস ১৪২টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) লড়ছে ১৪১টি আসনে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার জন্য মোট ১৪৬৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ১৫টি বাতিল করা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে সবথেকে বেশি ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন, আর সবথেকে কম ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন হুগলির গোঘাট (তফসিলি জাতি) আসনে।
দ্বিতীয় দফায় ৭ টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন, মহিলা ভোটার ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭৯২ জন।
এই দফার সবথেকে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র হলো কলকাতার ভবানীপুর। এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দু’জনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হয়েছিলেন। এবার ভবানীপুরের লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়েবকাস্টিং, সিসি ক্যামেরার নজরদারি এবং স্পর্শকাতর বুথগুলোতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়—মোট ৫০৭ কোম্পানি। এর মধ্যে বারাসাত পুলিশ জেলায় ১১২ কোম্পানি এবং বনগাঁ জেলায় ৬২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। অন্যান্য জেলাগুলোতেও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল, যেখানে ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছিল। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি