
নয়াদিল্লি, ২৯ এপ্রিল (হি.স.): দেশে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে এবং এমএসএমই খাতে তার অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগিতা মন্ত্রক। এই লক্ষ্যে “এমএসএমই-তে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ গ্রহণ সম্প্রসারণ” শীর্ষক একটি উচ্চস্তরীয় পরামর্শ কর্মশালা আয়োজন করা হয়, যেখানে ভবিষ্যৎ উপযোগী কর্মশক্তি গড়ে তোলার কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
কর্মশালায় এমএসএমই খাতে অ্যাপ্রেন্টিসশিপের বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ক্লাস্টার-ভিত্তিক মডেল, ‘অর্জন করতে করতে শেখা’ এবং কর্মসংযুক্ত শিক্ষার মতো বাস্তবভিত্তিক পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রমোশন স্কিমের আওতায় অগ্রগতি হলেও এখনও মূলত বড় ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রেই অ্যাপ্রেন্টিসশিপ সীমিত রয়েছে। বর্তমানে এমএসএমই-র ৯৪ শতাংশ অ্যাপ্রেন্টিস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকায় ছোট শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
বুধবার দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব দেবশ্রী মুখার্জি বলেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুললে দেশের যুবসমাজের ক্ষমতাকে বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি জানান, এমএসএমই ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং এখানে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ সহজ ও কার্যকর হলে লক্ষাধিক যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, ছোট শিল্পক্ষেত্রে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রসারের ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব ও জটিল প্রক্রিয়া বড় বাধা। পাশাপাশি পাইলট প্রকল্প চালু ও নীতিগত সংস্কারের বিষয়েও একাধিক সুপারিশ উঠে আসে।
এছাড়া গ্রুপ ট্রেনিং অর্গানাইজেশন, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ-সংযুক্ত ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং কর্মসংযুক্ত শিক্ষা কর্মসূচির মতো মডেল নিয়েও আলোচনা হয়, যাতে ছোট শিল্পের জন্য অ্যাপ্রেন্টিসশিপ আরও সহজলভ্য হয়।
কর্মশালা শেষে কেন্দ্রীয় অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কাউন্সিলের উপসমিতির বৈঠকেও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য