বহরমপুরে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন অধীর চৌধুরী, হলফনামায় প্রকাশ পেল বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান
বহরমপুর, ৩ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মনোনয়ন পেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেন
অধীর রঞ্জন চৌধুরী


বহরমপুর, ৩ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মনোনয়ন পেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, দায়দেনা এবং বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।

হলফনামা অনুযায়ী, অধীর চৌধুরীর কাছে বর্তমানে নগদ ৯৪,৫০০ টাকা রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী অতসী চৌধুরীর কাছে রয়েছে ৭.২৫ লক্ষ টাকা। অধীরের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৬ লক্ষ ৪২ হাজার ৬১১ টাকা জমা আছে। এছাড়াও তাঁর ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৭০৫ টাকার মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগ, ৩ লক্ষ টাকার জীবন বীমা পলিসি এবং ২২.২৭ লক্ষ টাকার একটি গাড়ি রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০২ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৩৪ টাকা, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না ও বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হলফনামায় তাঁর ওপর নির্ভরশীল সন্তানের নামেও ২৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৩২৯ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি দেখানো হয়েছে।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অধীর চৌধুরীর জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট মিলিয়ে মোট ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকার সম্পত্তি রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। দায়ের বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, অধীর চৌধুরীর স্ত্রীর নামে ব্যাঙ্ক ঋণসহ মোট ২৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার দেনা রয়েছে। এছাড়া অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন আছে, যার মধ্যে দুটি মুর্শিদাবাদ এবং একটি মালদহ জেলায়। তবে কোনও মামলাতেই এখনও অভিযোগ গঠিত হয়নি।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে হলফনামায় জানানো হয়েছে যে, অধীর চৌধুরী নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। রাজনৈতিক কেরিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে নবগ্রাম থেকে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন, কিন্তু ১৯৯৬ সালে ওই একই আসন থেকে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হন। এরপর বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার সাংসদ নির্বাচিত হওয়া ছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজিত হওয়ার প্রায় দু’বছর পর তিনি আবারও বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর পেশা রাজনীতি ও সমাজসেবা এবং আয়ের মূল উৎস হল সাংসদ হিসেবে প্রাপ্ত বেতন ও ভাতা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande