
মালদা, ৩০ এপ্রিল ( হি. স.) : মালদার মোথাবাড়িতে কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারপতিদের ঘিরে বিক্ষোভ ও দুর্ব্যবহারের মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেল অভিযুক্ত পক্ষ। বৃহস্পতিবার আদালতের পক্ষ থেকে মোফক্কেরুল ইসলাম-সহ মোট ৫২ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁদের আগামী ১৩ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
ভোটার তালিকার নথিপত্র পরীক্ষা ও নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাইকোর্ট সাতজন বিচারপতিকে দায়িত্ব দিয়েছিল। অভিযোগ, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে ঢুকে একদল বিক্ষোভকারী ওই বিচারপতিদের দীর্ঘক্ষণ ঘিরে রাখেন এবং তাঁদের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
আদালতের নির্দেশ ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে এই মামলার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। যদিও এনআইএ তদন্ত শুরুর আগেই রাজ্য পুলিশের সিআইডি মোফক্কেরুলকে গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীকালে ভিডিও ফুটেজ দেখে আরও ৫২ জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলার তদন্তভার হস্তান্তর নিয়ে রাজ্য পুলিশ ও এনআইএ-র মধ্যে আইনি টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপে এনআইএ পুরো মামলার দায়িত্ব নেয়।
এদিন অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হলে এনআইএ তার তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত ৫২ জনকেই জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ১২টি মামলার শুনানি হয়েছে এবং সবকটিতেই জেল হেফাজত মঞ্জুর করেছে আদালত। দ্রুত এই মামলার চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি