
হাফলং (অসম), ৩০ এপ্রিল (হি.স.) : আর মাত্র চার দিন। আগামী ৪ মে অসম বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হওয়ার দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়ে চলছে। গত ৯ এপ্রিল রাজ্যের ১২৬টি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এই অবস্থায় ডিমা হাসাও জেলার একমাত্র ১১৩ নম্বর জনজাতি সংরক্ষিত হাফলং আসনে দ্বিতীয়বার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হতে পারবেন কি না নন্দিতা গার্লোসা? এই প্রশ্ন এখন পাহাড়ি জেলায় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে হাফলং আসন থেকে প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছিলেন নন্দিতা গার্লোসা। তবে বিজেপি এবার নন্দিতা গার্লোসাকে প্রার্থিত্ব প্রদান করেনি। যার দরুন এক রাতের মধ্যে নন্দিতা গার্লোসা বিজেপি দল ত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগদান করেন। যোগদান করেই কংগ্রেসের টিকিটে হাফলং আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নন্দিতা। তবে দ্বিতীয়বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া নন্দিতা গার্লোসার কাছে এবার এতটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ এবার হাফলং আসনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নন্দিতাকে এবার প্রবল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এবার হাফলং আসনের সমীকরণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ চর্চা লাভ করেছে। কারণ হাফলং আসনে বিজেপি প্রার্থী রূপালি লাংথাসা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন কংগ্রেস প্রার্থী নন্দিতা গার্লোসার সামনে। হাফলং আসনে এবার নির্বাচনী ময়দানের রয়েছেন বিজেপির রূপালি লাংথাসা এনপিপির ড্যানিয়েল লাংথাসা এবং কংগ্রেসের নন্দিতা গার্লোসা।
২০২১ সালে হাফলং আসনের ভোটের হার ছিল ৭৪ শতাংশ। এবার ভোটের হার ৮ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে সার্বিকভাবে ভোটের হার ছিল ৮২.৪৩ শতাংশ। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী নন্দিতা গার্লোসা কংগ্রেস প্রার্থী নির্মল লাংথাসাকে ১৮ হাজার ৫৯৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন। সেবার নন্দিতা গার্লোসা পেয়েছিলেন ৬৭ হাজার ৭৯৭টি ভোট এবং কংগ্রেস প্রার্থী নির্মল লাংথাসা পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ১৯৯টি ভোট।
তবে ২০২১ সালে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে লড়াই সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার হাফলং আসনে লড়াই হবে তিন প্রার্থীর মধ্যে। তাই দ্বিতীয়বারের মতো হাফলং আসনে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এতটা সহজ হবে নন্দিতা গার্লোসার। তবে রাজ্যে ল্যাং মারামারির রাজনীতি নিয়ে বিজেপির বেশ কিছু প্রার্থী সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়ে ওঠায়, বিশেষ করে হাফলং আসন নিয়ে এবার বিশেষ চর্চা শুরু হয়েছে। তাই হাফলং আসনে শেষ হাসি কে মারবেন তার জন্য আপাতত ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব