
বালুরঘাট, ১ মে (হি. স.) : দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পতিরাম, পাগলিগঞ্জ এবং বোল্লা এলাকার পেট্রোল পাম্পগুলিতে জ্বালানি তেলের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পাম্পগুলিতে বাইক চালকদের সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৫০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। চার চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে এই সীমা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ট্রাকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকার ডিজেল বরাদ্দ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন চালকরা। বিশাল সাহা, সুজয় দাস এবং সুপ্রিয় দাসের মতো বাইক চালকদের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে তাঁদের বারবার পাম্পে আসাযাওয়া হচ্ছে। ২০০-২৫০ টাকার পেট্রোলে বেশিক্ষণ গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সময় এবং যাতায়াত খরচ দুই-ই বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পতিরাম বা বোল্লায় সংকট থাকলেও কুমারগঞ্জের মোহনা বা বাহিচারের পাম্পগুলিতে সরবরাহে তেমন কোনও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না। এক জায়গায় অভাব এবং অন্য জায়গায় স্বাভাবিক সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
পাম্প মালিক রুমু চৌধুরী এবং বাদল কৃষ্ণ বর্মন জানিয়েছেন যে, তেলের জোগান কম আসছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাঁদের অল্প করে তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, পতিরামের পাম্পে যে ১৪ থেকে ১৮ হাজার লিটার তেল আসে, তা দেড় দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ডিপো থেকে তেল আসার ব্যবধানও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। তবে অনেক সাধারণ মানুষ এই যুক্তি মানতে নারাজ। অনেকের ধারণা, নির্বাচনের পর তেলের দাম বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় মজুতদারি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ আন্তর্জাতিক অস্থিরতাকেও এর কারণ হিসেবে মনে করছেন।
দক্ষিণ দিনাজপুর পেট্রোল পাম্প অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক কাজল সরকার জানিয়েছেন, সংকটের কারণটি কিছুটা ভিন্ন। তাঁর মতে, যেসব পাম্প তাদের মাসিক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পার করে ফেলেছে, কোম্পানি থেকে তাদের এ মাসে কম তেল বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের কারণে গত মাসে তেলের বিক্রি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। তবে নতুন মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং তেলের জোগান স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে এই অচলাবস্থা কাটানোর এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ফেরানোর দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি