বিলোনিয়ায় পানীয় জলের তীব্র সংকট, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ—অবরোধে স্তব্ধ যান চলাচল
বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ১ মে (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাইছড়া বীণাপাণি ক্লাব এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। দীর্ঘদিন ধরে জল না পাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে শুক্রবার রাস্তায
বিলোনিয়ায় সড়ক অবরোধ


বিলোনিয়া (ত্রিপুরা), ১ মে (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মাইছড়া বীণাপাণি ক্লাব এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। দীর্ঘদিন ধরে জল না পাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে শুক্রবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কলসি-বালতি হাতে নিয়ে বিলোনিয়া-শান্তিরবাজার সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে সংশ্লিষ্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে গাড়ির মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই পরিষেবা নিয়মিতভাবে মিলছে না বলে দাবি এলাকাবাসীর।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রথম দিকে কয়েকদিন গাড়িতে জল সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সেই ব্যবস্থাও কার্যত বন্ধের মুখে। ফলে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে জল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ, যা বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য ভীষণ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। অবরোধের জেরে প্রায় ২০ মিনিট ধরে বিলোনিয়া-শান্তিরবাজার সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এতদিন কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করতেও কোনও প্রতিনিধি এলাকায় আসেননি বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পঞ্চায়েত প্রধান সহদেব দাস। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস দেন যে, যতদিন না স্থায়ী সমাধান হচ্ছে, ততদিন নিয়মিতভাবে গাড়ির মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তাঁর আশ্বাসের পরই অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তবে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল সরবরাহ না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। পাশাপাশি এলাকায় একটি পৃথক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, বর্তমান প্ল্যান্ট থেকে জল অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায় না, ফলে পাইপলাইন ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

এদিকে, পঞ্চায়েত প্রধান সহদেব দাস জানান, জল সরবরাহের ক্ষেত্রে দফতরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো পঞ্চায়েত এলাকায় মাত্র দুটি গাড়ির মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। তিনি দ্রুত অতিরিক্ত গাড়ির ব্যবস্থা এবং বিকল্প জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার দাবি জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande