
হুগলি , ১ মে (হি.স.) : ৪ মে-র ভোটগণনাকে সামনে রেখে আরামবাগে প্রশাসনিক তৎপরতা এখন চরমে। গণনার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার আচমকাই আরামবাগের স্ট্রং রুম ও গণনা কেন্দ্রে পৌঁছন বিআর বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি হরি পান্ডে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হুগলির জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার-সহ রাজ্য পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। হঠাৎ এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শুক্রবার দুপুরে পরিদর্শনের সময় আধিকারিকরা গণনা কেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি দিক পর্যবেক্ষণ করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মোতায়েন, প্রবেশ ও প্রস্থান পথের নিয়ন্ত্রণ, সিসি ক্যামেরা নজরদারি, ব্যারিকেডিং—সব কিছুই খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গণনার দিন যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তার জন্যই এই আগাম প্রস্তুতি ও পর্যালোচনা।
তবে এই তৎপরতা ঘিরে উঠেছে রাজনৈতিক প্রশ্নও। ভোটপর্ব জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির অভিযোগ ওঠার পর হঠাৎ প্রশাসনের এই সক্রিয়তা নিয়ে বিরোধীদের একাংশ কটাক্ষ ছুঁড়েছে। তাদের বক্তব্য, ভোটের দিন পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলেও গণনার আগে প্রশাসনের অতিরিক্ত সক্রিয়তা দায় এড়ানোরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, গণনার দিন ফলাফল ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন এখন আগাম সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য একেবারেই স্পষ্ট—গণনা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নির্বিঘ্ন রাখতে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না। ডিআইজি হরি পান্ডে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখা হবে না এবং কড়া নজরদারির মধ্যেই সম্পন্ন হবে ভোটগণনা।
সব মিলিয়ে, ৪ মে-র গণনাকে ঘিরে আরামবাগে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনের এই ‘অ্যাকশন মোড’ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA