
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৪ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর শহরের শিববাড়ি এলাকার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যাপক সুজিত চক্রবর্তী (৭০)-র অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অধ্যাপকের চাকরি করেছেন এবং শিক্ষাজগতে নিষ্ঠাবান শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। স্থানীয় মহলে তিনি একজন শান্ত, ভদ্র ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সুজিতবাবু। বয়সজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবেও তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তিনি নিজ বাড়িতে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে ধর্মনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। ওই চিরকুটে সুজিত চক্রবর্তী নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সুজিত চক্রবর্তীর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং তাঁর অসংখ্য প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এলাকার বাসিন্দারা জানান, তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, সমাজের একজন দায়িত্বশীল ও সজ্জন মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ধর্মনগরের শিক্ষাঙ্গন এবং স্থানীয় সমাজ এক অভিজ্ঞ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বকে হারাল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ