
কলকাতা, ১৫ মে (হি. স. ) : ফের কাঠগড়ায় জাতিগত শংসাপত্র। ২০২১ থেকে দেওয়া এসসি, এসটি শংসাপত্র যাচাইয়ের নির্দেশ দিল সরকার। জাতিগত শংসাপত্রও পুনরায় যাচাই করতে হবে। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর জেলা শাসকদের এই নির্দেশ দিল।
সূত্রের খবর, ২০১১ থেকে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তফসিলি জাতি হিসেবে প্রায় ১ কোটি সার্টিফিকেট বিলি করা হয়েছে। তফসিলি উপজাতি হিসেবে ২১ লক্ষ এবং ওবিসি-দের ৪৮ লক্ষ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই শংসাপত্রগুলির সত্যতা ও বৈধতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। যদি কেউ বেআইনি কিংবা ভুলভাবে শংসাপত্র পেয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর বেআইনি জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি বলেছেন, 'মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হওয়ার পর আমরা তদন্ত করাব। আর তদন্ত করে যেসব অফিসার এর মধ্যে জড়িত ও দোষী সাব্যস্ত হবেন, যাঁরা এই শংসাপত্র দেওয়ায় মদত দিয়েছেন, তাঁদের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
অন্যদিকে মন্ত্রিসভা গঠনের পর নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও সচিবদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে কয়েকটি বিষয় তিনি উল্লেখও করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, পূর্বের সরকারের আমলে, অর্থাৎ গগত ১৫ বছরে প্রশাসনিক স্তরে যে সব দুর্নীতি হয়েছে, তার সঠিক বিচার হবেই। বিশেষ করে এসসি, এসটি ও ওবিসি শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির খবর আছে, এই বিষয়টি নিয়ে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে সচিবদের বলেছিলেন, ''এসআইআর-এর সময় যারা বেআইনিভাবে জাতি শংসাপত্র দিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব। এসব নিয়ে যাঁরা জালিয়াতি করেছেন, যে সব অফিসাররা এর মধ্যে জড়িত, তাঁদের সবার ফাইল আমার কাছে আছে।''
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত