
আগরতলা, ১৫ মে (হি.স.) : ত্রিপুরার সরকারি দফতরগুলিতে ‘ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ক্যাম্পেইন’ শীর্ষক ১৫০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুখ্যসচিব জেকে সিনহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের সচিব, অধিকর্তা এবং আরক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ডঃ পি কে চক্রবর্তী, সচিব অপূর্ব রায়, ডঃ পিকে গোয়েল, মিলিন্দ রামটেকে, অভিষেক সিং, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এছাড়াও বিভিন্ন জেলার জেলা শাসক এবং কোয়ালিটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার আধিকারিকরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের সূচনায় সুশাসন দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে স্বচিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে কর্মসূচির বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই ১৫০ দিনের কর্মসূচি মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল (আইসিটি) পরিকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি ওয়েবসাইটের গুণগত মান বৃদ্ধি, অনলাইন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, ই-অফিস বাস্তবায়ন, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার, জিআইএস-ভিত্তিক টুলস এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, ডিজিটাল পরিষেবাকে আরও কার্যকর করতে হলে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়বে।
সভায় মুখ্যসচিব জেকে সিনহা বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য রাজ্য তথা দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সমাজে রূপান্তরিত করা। তিনি বলেন, প্রতিটি সরকারি দফতরকে ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করা গেলে প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ এবং নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠবে।
মুখ্যসচিব বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তিনি জানান, বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে নানা প্রতিবন্ধকতা আসা স্বাভাবিক। তবে দৃঢ় লক্ষ্য এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোতে পারলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি সচিব ও আধিকারিকদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দেন। সাধারণ মানুষের কাছে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরতে এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
মুখ্যসচিব আরও বলেন, ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ বা সক্ষমতা বৃদ্ধি বলতে কেবল কর্মীদের প্রশিক্ষণ নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করাকেই বোঝায়। এর সূচনা পরিবার ও সমাজের ভিত্তিস্তর থেকেই হওয়া উচিত।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক সংস্কার, বিধিনিষেধ শিথিলকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ফলে ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসা অর্জন করেছে। ডিজিটাল গভর্ন্যান্স কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজ্য আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাব ব্যক্ত করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ