১ আগস্টে শুরু হবে জনগণনার প্রথম পর্ব, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
আগরতলা, ১৫ মে (হি.স.) : ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনার কাজ আরও সহজ ও দ্রুত করতে স্ব-গণনা বা সেলফ অ্যানুমারেশনের সুযোগ রেখে আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হবে জনগণনার প্রথম পর্ব। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ত্রিপুরা সেনসাস অপারেশন অধিকর্তার কার্যা
সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক


আগরতলা, ১৫ মে (হি.স.) : ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনার কাজ আরও সহজ ও দ্রুত করতে স্ব-গণনা বা সেলফ অ্যানুমারেশনের সুযোগ রেখে আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হবে জনগণনার প্রথম পর্ব। পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ত্রিপুরা সেনসাস অপারেশন অধিকর্তার কার্যালয় ও ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহায়তায় সোনারতরী রাজ্য অতিথিশালায় আয়োজিত তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপনী দিনে এ কথা জানান পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার।

শুক্রবার প্রশিক্ষণ শিবির শেষে অতিথিশালার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক জানান, ২০২৬-২৭ সালের জনগণনার প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত হাউজলিস্টিং ও হাউজিং সেনসাস পরিচালিত হবে। এর আগে ১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে সেলফ অ্যানুমারেশন বা স্ব-গণনার পর্ব। এই সময়ে নাগরিকরা মোবাইল অ্যাপ অথবা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের তথ্য স্বয়ং জমা দিতে পারবেন।

তিনি বলেন, নির্ধারিত ওয়েবসাইটে তথ্য জমা দেওয়ার পর প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি স্বতন্ত্র সেলফ অ্যানুমারেশন আইডি তৈরি হবে। পরবর্তীতে গণনাকারী কর্মীরা বাড়িতে গেলে ওই আইডি দেখালে তারা তথ্য যাচাই করে কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করবেন। এই ডিজিটাল ব্যবস্থা বাংলা ভাষাসহ ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ থাকবে।

জেলাশাসক আরও জানান, ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় চালু হওয়া এই স্ব-গণনা পদ্ধতির ফলে জনগণনার কাজ যেমন আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে, তেমনি সময়ও অনেক কম লাগবে। সাধারণ মানুষ নিজের সুবিধামতো সময়ে তথ্য প্রদান করতে পারবেন, ফলে গণনাকারীদের কাজও সহজ হবে।

পশ্চিম জেলার অন্তর্গত ৯টি ব্লকের বিডিও, বিভিন্ন নগর পঞ্চায়েত ও পুরপরিষদের আধিকারিক, আগরতলা পুরনিগমের প্রতিনিধি, জেলার তিনটি মহকুমার মহকুমা শাসক, পরিসংখ্যান দফতরের জেলা পর্যায়ের আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

তিনদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শিবিরে জনগণনা কার্যক্রমে নিযুক্ত সুপারভাইজার, গণনাকারী ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি এবং ইউজার ম্যানুয়াল সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়েও মৌলিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

জেলাশাসক বলেন, জনগণনা দেশের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প প্রণয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। সঠিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।

প্রশিক্ষণ শিবির সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল আধিকারিক ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পশ্চিম ত্রিপুরাসহ সমগ্র রাজ্যে জনগণনার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande