দেশ পেরিয়ে এবার বিদেশের মাটিতেও বাংলার ‘ঝালমুড়ি’র ঝাঁঝ, নেদারল্যান্ডসে প্রবাসী ভারতীয়দের আসরে মোদী
হেগ (নেদারল্যান্ডস), ১৬ মে (হি.স.): বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়ে সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ‘ঝালমুড়ি’র ঝাঁঝ এখনও এতটুকু কমেনি। ভোটের ময়দান পেরিয়ে বাংলার এই জনপ্রিয় মুখরোচক খাবারটির চর্চা এবার শোনা গেল সুদূর বিদেশের মাটিতেও। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে
প্রধানমন্ত্রী


হেগ (নেদারল্যান্ডস), ১৬ মে (হি.স.): বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন শেষ হয়ে সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ‘ঝালমুড়ি’র ঝাঁঝ এখনও এতটুকু কমেনি। ভোটের ময়দান পেরিয়ে বাংলার এই জনপ্রিয় মুখরোচক খাবারটির চর্চা এবার শোনা গেল সুদূর বিদেশের মাটিতেও। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে উঠে এলো বাংলার ‘ঝালমুড়ি’র প্রসঙ্গ, যা শুনে উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত জনতা।

শনিবার হেগে আয়োজিত এক প্রবাসী ভারতীয়দের সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ভারতের সাম্প্রতিক পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টানেন। ঠিক সেই সময়ই মোদীর মুখে ‘বাংলা’র নাম শুনেই উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্য থেকে একজন সজোরে ‘ঝালমুড়ি’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। তা শুনেই মঞ্চে হেসে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। রসিকতা করে তিনি বলেন, “ঝালমুড়ি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে!” প্রধানমন্ত্রীর এই চটজলদি জবাবে হাততালিতে ফেটে পড়ে গোটা সভাগৃহ।

আসলে সদ্য সমাপ্ত বাংলা নির্বাচনে ‘ঝালমুড়ি’ ছিল অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু। ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচার সেরে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী আচমকাই স্থানীয় একটি মুড়ির দোকানে ঢুকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন। দোকানির সঙ্গে তাঁর সেই কথোপকথনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়। বিজেপি একে প্রধানমন্ত্রীর ‘মাটির মানুষ’ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরলেও, তৃণমূল কংগ্রেস একে ‘নাটক’ এবং ‘শুটিং সেট’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, “ক্যামেরা ফিট করে ঝালমুড়ি খেয়েছেন।” যার জবাবে মোদী পাল্টা তোপ দেগেছিলেন, “ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, আর ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।”

ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজেপির বিপুল জয়ের (২০৭টি আসন) পর গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে মিষ্টির পাশাপাশি ঝালমুড়ি বিলি করে উদযাপন করা হয়েছিল। এমনকি বাংলার নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও অতিথিদের জন্য ছিল ঝালমুড়ির বিশেষ স্টল।

এদিন সভায় ভারতে নারী ক্ষমতায়ন এবং রেকর্ড ভোটদানের হারের খতিয়ান তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ, যেখানে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।” এর পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের ভারত বড় স্বপ্ন দেখতে জানে। অদূর ভবিষ্যতে ভারত অলিম্পিক গেমস আয়োজন করতে চায়।” স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির জোয়ার নিয়ে তিনি জানান, এক দশক আগে দেশে মাত্র ৫০০টি স্টার্ট-আপ ছিল, যা গত ১২ বছরে বেড়ে ২ লক্ষ পার করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই নেদারল্যান্ডস সফরটি বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতেই এই সফর। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন শক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে, যা উভয় দেশের প্রগতিতে বড় ভূমিকা নেবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande