নির্বাচনে পরাজয়ের পর সংগঠনের হাল ধরতে বৈঠক পালানিস্বামীর
চেন্নাই, ১৯ মে (হি.স.) : বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দল আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-র অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের রায়াপেট্টায় দলীয় সদর জেলা সম্পাদক ও প
নির্বাচনী পরাজয়ের পর দল গোছাতে বৈঠকে এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী


চেন্নাই, ১৯ মে (হি.স.) : বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দল আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-র অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের রায়াপেট্টায় দলীয় সদর জেলা সম্পাদক ও প্রবীণ নেতাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন দলের সাধারণ সম্পাদক এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী। নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই প্রথম তিনি দলীয় কার্যালয়ে এসে সংগঠনের হাল ধরলেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিন সকাল ৯টা নাগাদ ইপিএস দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছতেই সমর্থক ও কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম জি রামচন্দ্রন এবং প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান।

প্রথমে বৈঠকটি আদয়ারের গ্রিনওয়েজ রোডে পালানিস্বামীর বাসভবনে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেটি দলীয় সদর দফতরে সরিয়ে আনা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় সংগঠনের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রবীণ নেতা কে পি মুনুসামি, আর বি উদয়কুমার, ও এস মানিয়ান এবং আগ্রি কৃষ্ণমূর্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তবে বিরোধী শিবিরের কোনও প্রভাবশালী বিধায়ক বা পদাধিকারী বৈঠকে যোগ দেননি। শুধুমাত্র পালানিস্বামী-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক ও নেতারাই উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রের খবর, বৈঠকে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, অসন্তুষ্ট বিধায়কদের ভূমিকা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিধানসভায় আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে এআইএডিএমকে-র মোট ৪৭ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৩২ জনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু এস পি ভেলুমণি গোষ্ঠীর পাশে বর্তমানে মাত্র ২৫ জন বিধায়ক রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে আপাতত তাদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিনের বৈঠকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২৫ জন বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

দলীয় সূত্রে খবর, স্পিকার যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে এডাপ্পাদি পালানিস্বামী আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। বৈঠকে সেই আইনি পথ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দলকে নতুন করে সংগঠিত করা, কর্মীদের সক্রিয় করে তোলা এবং দলছুট নেতাদের ফের দলে টানার বিষয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষ হওয়ার পরেও রাজ্যস্তরের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন পালানিস্বামী। সেখানে এস পি ভেলুমণি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আগামী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী গোষ্ঠীও এদিন নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে সক্রিয় ছিল। চেন্নাইয়ের এমআরসি নগরে সি ভি শানমুগমের কার্যালয়ে পৃথক বৈঠক করেন এস পি ভেলুমণি, সি বিজয়ভাস্কর-সহ একাধিক নেতা। বৈঠকের পর তাঁদেরও এআইএডিএমকে সদর দপ্তরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যায়। দলের দুই গোষ্ঠীর টানাপোড়েনের জেরে রায়াপেট্টার দলীয় সদর দফতরে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ বাহিনী। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে এআইএডিএমকে-র অভ্যন্তরীণ সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে তামিলনাড়ুর সামগ্রিক রাজনীতিতেও।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস




 

 rajesh pande