পূর্ব ভারতই হতে পারে দেশের কৃষি বিকাশের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’: শিবরাজ সিং চৌহান
ভুবনেশ্বর, ১৯ মে (হি.স.) : পূর্ব ভারতের উর্বর জমি, পর্যাপ্ত জলসম্পদ, কৃষকদের পরিশ্রম এবং বৈচিত্র্যময় জলবায়ুকে কাজে লাগাতে পারলে এই অঞ্চলই দেশের কৃষি বিকাশের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
শিবরাজ সিং চৌহান


ভুবনেশ্বর, ১৯ মে (হি.স.) : পূর্ব ভারতের উর্বর জমি, পর্যাপ্ত জলসম্পদ, কৃষকদের পরিশ্রম এবং বৈচিত্র্যময় জলবায়ুকে কাজে লাগাতে পারলে এই অঞ্চলই দেশের কৃষি বিকাশের ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।

মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত ‘পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক কৃষি সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সামান্য আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলেই পূর্ব ভারত কৃষিক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।

এই সম্মেলনে ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গ—এই পাঁচ রাজ্যের কৃষি উন্নয়ন এবং কৃষকদের কল্যাণে যৌথ রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি , বিভিন্ন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা।

সম্মেলনে শিবরাজ সিং চৌহান ওড়িশার ধান ক্রয় নীতির প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি কৃষকদের কমপক্ষে ২০ শতাংশ জমিতে প্রাকৃতিক চাষ পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। নকল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষকদের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্র সরকার নতুন ‘পেস্টিসাইড অ্যাক্ট’ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, জৈব চাষ ও মাটি সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদে বর্তমানে ওড়িশার জৈব চাল ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সমৃদ্ধ কৃষক যোজনা’র আওতায় কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কুইন্টাল ধান ৩১০০ টাকায় কেনা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘সিএম কৃষক যোজনা’র মাধ্যমে বছরে ৫১ লক্ষেরও বেশি কৃষককে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্যে কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রতিটি মহকুমায় কোল্ড স্টোরেজ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও কোরাপুট ও কালাহান্ডি সহ ছয় জেলায় এক লক্ষ একর জমিতে কফি চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা কৃষিমন্ত্রী কানক বর্ধন সিংদেও, বিহারের কৃষিমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা, ছত্তিশগড়ের কৃষিমন্ত্রী রামবিচার নেতম, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামনাথ ঠাকুর এবং পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande