
জগদলপুর (ছত্তিশগড়), ১৯ মে (হি. স.) : দেশ থেকে নকশালবাদ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের চরম ধৈর্য ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ের বস্তারে আয়োজিত মধ্য আঞ্চলিক পরিষদের ২৬তম বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, নকশালদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বিগত পাঁচ দশক ধরে যে সমস্ত এলাকা নকশাল হিংসার কারণে পিছিয়ে পড়েছিল, এবার সেগুলিকে দেশের অন্য প্রান্তের সমকক্ষ করে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক বড় লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করে বলেন, যেভাবে আমরা দেশকে নকশালমুক্ত করেছি, ঠিক একইভাবে ২০২৯ সালের মধ্যে এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে যেকোনো অপরাধমূলক मामला সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে পৌঁছায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে এবং ছত্তিশগড় সরকারের আতিথেয়তায় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মোহন যাদব, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির শীর্ষ আধিকারিকরা এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যেখানে আঞ্চলিক পরিষদের মাত্র ১১টি বৈঠক হয়েছিল, সেখানে ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২-এ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, চার রাজ্যের পারস্পরিক আলোচনা ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের ফলে এই বিশাল ভূখণ্ডে রাজ্যগুলির মধ্যে বা কেন্দ্রের সঙ্গে এখন আর বড় কোনও বিবাদ অবশিষ্ট নেই, যা এক বিরাট সাফল্য।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যগুলির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জল জীবন মিশন-২ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজে আরও গতি আনতে হবে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে কুপোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে স্কুলছুটের হার কমানো এবং শিক্ষার গুণমান বাড়ানো জরুরি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ব্যাংকিং পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এখন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনাগুলিতে অন্তত ৫০ শতাংশ মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পকসো এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা করা গেলে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ১০০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া ৫ বছরের বেশি পুরনো মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টগুলিকে বিশেষ আদালত গঠনের অনুরোধ জানান তিনি। সাইবার অপরাধ রুখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনে '১৯৩০' হেল্পলাইন নম্বর ও কল সেন্টারগুলিকে আরও আপগ্রেড করার নির্দেশ দেন তিনি। খাদ্যে ভেজাল রুখতে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি দোষী প্রমাণিত হওয়া দোকানের নাম জনসমক্ষে প্রচার করারও পরামর্শ দেন অমিত শাহ, যাতে সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হতে পারেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি