৯২ বছরে রস্কিন বন্ড, দেহরাদূনেই সাদামাটা জন্মদিন; মুসৌরির কুয়াশায় আজও বেঁচে তাঁর লেখার পাহাড়
মুসৌরি/দেহরাদূন, ১৯ মে (হি.স.) : পাহাড়ের শহর মুসৌরির সঙ্গে যাঁর নাম প্রায় অবিচ্ছেদ্য, সেই বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি লেখক রস্কিন বন্ড মঙ্গলবার ৯২ বছরে পা দিলেন। বয়সজনিত কারণে এবার আর মুসৌরিতে ফিরতে পারেননি তিনি। দেহরাদূনের বাসভবনেই পরিবারের সঙ্গে একেবারেই
৯২ বছরে রস্কিন বন্ড, দেহরাদূনেই সাদামাটা জন্মদিন; মুসৌরির কুয়াশায় আজও বেঁচে তাঁর লেখার পাহাড়


মুসৌরি/দেহরাদূন, ১৯ মে (হি.স.) : পাহাড়ের শহর মুসৌরির সঙ্গে যাঁর নাম প্রায় অবিচ্ছেদ্য, সেই বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি লেখক রস্কিন বন্ড মঙ্গলবার ৯২ বছরে পা দিলেন। বয়সজনিত কারণে এবার আর মুসৌরিতে ফিরতে পারেননি তিনি। দেহরাদূনের বাসভবনেই পরিবারের সঙ্গে একেবারেই সাদামাটা ভাবে কেটেছে জন্মদিন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাঁকে মুসৌরি থেকে দেহরাদূনে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা যাচ্ছে।

প্রতি বছর এই দিনটিকে ঘিরে মুসৌরির মাল রোড যেন এক ছোটখাটো সাহিত্য উৎসবে পরিণত হয়। বইপ্রেমীরা ভিড় করেন শুধু একবার তাঁকে দেখার আশায়, অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য। তিনি ধৈর্য ধরে হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলেন, বইয়ে সই করেন, শিশুদের গল্প শোনান। এ বছর সেই দৃশ্য না থাকায় মুসৌরির বাতাসে এক ধরনের নীরব বিষণ্নতা।

রস্কিন বন্ডের জন্ম ১৯৩৪ সালের ১৯ মে, হিমাচল প্রদেশের কসৌলিতে। শৈশব কেটেছে শিমলা ও দেহরাদূনের পাহাড়ি পরিবেশে। খুব অল্প বয়সেই লেখালেখি শুরু করেন তিনি। তাঁর প্রথম দিকের স্বীকৃতি আসে ‘জন লেভেলিন রিস’ পুরস্কারের মাধ্যমে, যা তাঁকে আন্তর্জাতিক সাহিত্য জগতে পরিচিত করে তোলে।

এরপর থেকে পাহাড়ই হয়ে ওঠে তাঁর লেখার মূল অনুপ্রেরণা। তাঁর গল্পে বারবার ফিরে আসে বৃষ্টি ভেজা মুসৌরি, দেবদারু বন, নিঃসঙ্গ পথ, শৈশবের স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর মানুষের গভীর অনুভূতির সূক্ষ্ম ছবি।

তিনি নিজেই যেন বারবার লিখে গিয়েছেন পাহাড়ের আত্মকথা। মুসৌরির কুয়াশা, বৃষ্টির শব্দ, আর শান্ত নিস্তব্ধতা—সবই তাঁর লেখায় এক জীবন্ত চরিত্র হয়ে উঠেছে।

তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে দ্য ব্লু আমব্রেলা, এ ফ্লাইট অব পিজনস , আওয়ার ট্রিজ স্টিল গ্রো ইন দেহরা, দিল্লি ইজ নট ফার, এবং টাইম স্টপস অ্যাট শামলি।

তাঁর বহু গল্প ও উপন্যাস চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে রূপান্তরিত হয়েছে। বিশেষ করে ‘সাত খুন মাফ’-এর মতো কাজ তাঁর সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মুসৌরিতে বসবাস করে আসা এই লেখক একসময় বলেছিলেন—পাহাড়ই তাঁর সবচেয়ে বড় শিক্ষক। এখানকার বৃষ্টি, নির্জনতা, বন আর সাধারণ মানুষের জীবনই তাঁর লেখার আসল চরিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রস্কিন বন্ড শুধু একজন লেখক নন, তিনি মুসৌরির এক জীবন্ত পরিচয়। তাঁর লেখার মাধ্যমে এই পাহাড়ি শহর বিশ্ব সাহিত্যের মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

আজ ৯২ বছর বয়সেও তাঁর লেখা একইভাবে পাঠককে ছুঁয়ে যায়—কারণ সেখানে গল্পের চেয়ে বেশি থাকে এক ধরনের শান্ত জীবনবোধ, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে ওঠে। নতুন প্রজন্মের পাঠকরাও তাঁর লেখার মধ্যে খুঁজে পান সরলতা, মানবিকতা ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের গল্প। রস্কিন বন্ডের লেখা শুধু গল্প নয়, তা এক ধরনের ধীর, শান্ত জীবনবোধ—যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে উঠছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande