
নয়াদিল্লি, ১৯ মে ( হি. স.) : ওসলোয় আয়োজিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলনে সবুজ উন্নয়ন, উন্নত প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং সামুদ্রিক অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি সহ একাধিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিল অংশীদার দেশগুলি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং ভারত-ইএফটিএ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির সুবিধা নিয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে সব পক্ষ একমত হয়েছে। সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি অংশ নিয়েছিলেন পাঁচ নর্ডিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা, যার মধ্যে ছিলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোরে, ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার স্টাব এবং আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডটিয়ার।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিশাল কর্মপরিধি ও সম্ভাবনাকে নর্ডিক দেশগুলির উদ্ভাবনী শক্তির সঙ্গে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার আবহে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির এই অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের এক মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। নেতৃবৃন্দ এই অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলিতে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে ভারত-নর্ডিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে 'সবুজ প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী কৌশলগত অংশীদারিত্ব' স্তরে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে জানান, এই যৌথ প্রয়াস একদিকে যেমন উদ্ভাবন ও মেধার মেলবন্ধন ঘটাবে, অন্যদিকে তেমনই মানবজাতির এক উন্নত ও সুরক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য বিশ্বস্ত প্রযুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গেছে, এদিনের বৈঠকের পর ভারত ও নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে মূলত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐক্যমত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আর্কটিক অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, জলবায়ু পর্যালোচনা এবং পরিবেশগত নজরদারিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও গণিত অর্থাৎ 'স্টেম' ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার, জাহাজ চলাচল শিল্প, মৎস্য চাষ এবং সমুদ্র প্রযুক্তির উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই অঞ্চলের মধ্যে ছাত্র, গবেষক ও দক্ষ পেশাদারদের যাতায়াত সহজ করতে মেধার আদানপ্রদান এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে শিল্প সহযোগিতা, যৌথ উৎপাদন ও সামরিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও এই শীর্ষ সম্মেলনে সায় দিয়েছে দেশগুলি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি