পশ্চিমবঙ্গের ৪ শহরে শুরু হচ্ছে স্বচ্ছ ভারত মিশনের পাইলট প্রজেক্ট, মিলল কেন্দ্রের অনুমোদন
কলকাতা, ১৯ মে (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের চারটি শহরকে কেন্দ্র সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ প্রকল্পের পাইলট প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্
শুভেন্দু অধিকারী ও অগ্নিমিত্রা পাল


কলকাতা, ১৯ মে (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের চারটি শহরকে কেন্দ্র সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’ প্রকল্পের পাইলট প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার নতুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সভাপতিত্বে স্বচ্ছ ভারত মিশন নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে অংশ নেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। উল্লেখ্য, বিগত প্রায় ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথম রাজ্যের কোনো মন্ত্রী কেন্দ্রের এ জাতীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সশরীরে যোগ দিলেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে বাংলায় স্বচ্ছ ভারত মিশনের কার্যকর রূপায়ণ সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থরাশির মাত্র ১৬ শতাংশের কাছাকাছি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এবার প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের চারটি পুর-অঞ্চল তথা দুর্গাপুর, আসানসোল, কালিম্পং এবং দার্জিলিংয়ে এই পাইলট প্রজেক্ট শুরু করা হবে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ প্রায় ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প পেতে চলেছে। কেন্দ্র সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্য যদি কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পেশ করে, তবে বরাদ্দের ক্ষেত্রে তহবিলের কোনো অভাব হবে না।

নির্বাচিত এই শহরগুলিতে মূলত পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। প্রাথমিক ধাপের এই শহরগুলিতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্লাস্টিক মুক্ত অভিযানের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হবে। অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট করেন যে, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান কেবল মূল রাস্তাঘাটেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং শহরের অলিগলি এবং আবাসিক এলাকা পর্যন্ত একে সুদৃঢ় করা হবে। এর পাশাপাশি বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক উপায়ে ব্যবস্থাপনা এবং তা পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করা হবে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর চলতি মাসের শেষের দিকেই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসতে পারেন। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার পরিচ্ছন্নতা ও নগর সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিতে শুরু করেছে। এরই অঙ্গ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে শিয়ালদহ এবং হাওড়ার মতো বড় রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলিতে জবরদখল উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়েছে। আগামী দিনে স্কুল স্তরেও স্বচ্ছ ভারত মিশন নিয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande